অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর :

- ক)(1)
চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি কি?
- খ)(2)
মুদ্রাস্ফীতি হলে ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের মুদ্রাস্ফীতি দেখানো হয়েছে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক নীতির ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সামগ্রিক যোগান স্থির বা অপরিবর্তিত থাকা অবস্থায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দামস্তরের যে ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়, তাকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-pull Inflation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঋণদাতা যখন কাউকে অর্থ ঋণ দেয়, তখন অর্থের যে ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্যমান থাকে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে পরবর্তীতে যখন সেই ঋণ সুদসহ বা আসল হিসেবে ফেরত পায়, তখন সামগ্রিক দামস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থের প্রকৃত মূল্য বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে ঋণদাতা আগের চেয়ে কম পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারে। এই কারণে মুদ্রাস্ফীতির সময় ঋণগ্রহীতা লাভবান হলেও ঋণদাতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি' (Demand-pull Inflation) দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে উৎপাদনের পরিমাণ (Q) এবং লম্ব অক্ষে দামস্তর (P) নির্দেশ করা হয়েছে। চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিক যোগান রেখা পূর্ণ নিয়োগ স্তরে () লম্ব অক্ষের সমান্তরাল বা সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক। অর্থাৎ, অর্থনীতিতে পূর্ণ নিয়োগ বিরাজ করায় উৎপাদন বা যোগান আর বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।
প্রাথমিকভাবে সামগ্রিক চাহিদা রেখা এবং সামগ্রিক যোগান রেখা পরস্পরের সাথে 'a' বিন্দুতে ভারসাম্য লাভ করে, যেখানে দামস্তর হলো ১০। পরবর্তীতে কোনো কারণে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে চাহিদা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়ে হয়। কিন্তু পূর্ণ নিয়োগের কারণে যোগান অপরিবর্তিত থাকে এবং নতুন ভারসাম্য বিন্দু 'b'-তে নির্ধারিত হয়। এর ফলে দামস্তর ১০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০-এ উন্নীত হয়। এভাবে সামগ্রিক যোগান স্থির থেকে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির দরুন দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় উদ্দীপকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সৃষ্ট চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক নীতি (Monetary Policy) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অর্থের যোগান ও ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিচে এর ভূমিকা আলোচনা করা হলো:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে সুদে ঋণ দেয়, তাকে ব্যাংক হার বলে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ সুদের হারের কারণে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়, ফলে বিনিয়োগ ও ভোগ ব্যয় হ্রাস পেয়ে সামগ্রিক চাহিদা কমে এবং দামস্তর হ্রাস পায়।
২. খোলা বাজারে সিকিউরিটিজ বিক্রয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলা বাজারে সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও ঋণপত্র জনসাধারণের এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
৩. জমার অনুপাত বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট জমার একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ তারল্য হিসেবে জমা রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নগদ জমার হার (CRR) এবং বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (SLR) বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ বিতরণের ক্ষমতা সংকুচিত হয়, যা অর্থের প্রবাহ কমাতে সাহায্য করে।
৪. ঋণ রেশনিং ও প্রান্তিক আমানতের হার পরিবর্তন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন খাতে প্রদত্ত ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ (রেশনিং) করতে পারে এবং জামানতি ঋণের ক্ষেত্রে মার্জিনের হার বাড়িয়ে ঋণের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সুতরাং, চিত্রে প্রদর্শিত সামগ্রিক চাহিদা রেখাকে থেকে পুনরায় বামে -এ ফিরিয়ে এনে বর্ধিত দামস্তর ২০ থেকে হ্রাস করে ১০-এ নামিয়ে আনার জন্য সংকোচনমূলক আর্থিক নীতি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও