বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শোভনা গ্রামের শিক্ষিত পরোপকারী সন্তান সুভাষ। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন মান পরিবর্তন, শিক্ষা বিস্তার ও বাল্যবিবাহ রোধে গড়ে তুলেছে ‘যুব সংঘ' নামক একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন সে গ্রামের বাড়ি বাড়ি যেয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের জীবন মান উন্নয়নের চেষ্টা করে। এলাকার অনেকেই এ কাজকে প্রশংসা করলেও নিন্দুকেরা নিন্দা করতে ছাড়েনি। কিন্তু সুভাষ নিন্দুকদের কথায় কান না দিয়ে তার কাজে অটল থেকেছে। কারণ সে জানে জাতি শিক্ষিত হলে সমাজের কুসংস্কার দূর হবে।
- ক)(1)
'মেকি' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
কবি নিজেকে অভিশাপ রথের সারথি' বলে অভিহিত করেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুভাষ চরিত্রের সঙ্গে 'আমার পথ' প্রবন্ধের সংগতিপূর্ণ বিষয়ের যৌক্তিক রূপ তুলে ধর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর তাৎপর্য 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূলভাবনাকে ইঙ্গিত করে।”—'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মেকি' শব্দের অর্থ কপট, কৃত্রিম, মিথ্যা বা ভণ্ড।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজের যাবতীয় মিথ্যা, ভণ্ডামি, অন্যায় ও দাসত্ব ঘুচিয়ে সত্যের প্রতিষ্ঠা করতে বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন বলে কাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে 'অভিশাপ-রথের সারথি' বলে অভিহিত করেছেন।
প্রাবন্ধিক সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, মিথ্যা আনুগত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধ্বংসের বার্তা নিয়ে আসেন। তিনি জীর্ণ সমাজব্যবস্থাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে সত্যের নতুন যুগ সূচনা করতে চান। এই বিপ্লব ও নবজাগরণকে সাধারণ রক্ষণশীল সমাজ হয়তো 'অভিশাপ' বলে মনে করতে পারে; কিন্তু সত্যের পতাকা বহনকারী হিসেবে তিনি সেই অভিশাপের রথ চালিয়ে পরিবর্তনের সারথি হতে পিছপা হন না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুভাষ চরিত্রের সঙ্গে 'আমার পথ' প্রবন্ধের নিজের সত্যকে উপলব্ধি করে সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণ ও নিন্দার মুখেও অবিচল থাকার দিকটি সংগতিপূর্ণ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক আত্মপ্রত্যয়ী ব্যক্তিসত্তার কথা বলেছেন, যে নিজের সত্যকে চেনে এবং সমাজের ভণ্ডামি ও অন্ধ বিশ্বাসের কাছে মাথানত করে না। নিজের আত্মশক্তি ও সত্যের উপর গভীর বিশ্বাসই মানুষকে পরনির্ভরশীলতা ও দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়। নিন্দুকদের ভয় না পেয়ে নিজের সঠিক পথের দিশারি হওয়া প্রবন্ধের প্রধান দিক।
উদ্দীপকের সুভাষ উচ্চশিক্ষা শেষে সমাজের অন্ধ কুসংস্কার, বাল্যবিয়ে রোধ ও শিক্ষা বিস্তারে 'যুব সংঘ' গঠন করে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এলাকার একশ্রেণির মানুষ তার সমালোচনা ও নিন্দা করলেও সুভাষ নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও বিচ্যুত হয়নি। সে নিজের সত্যের আলোয় সমাজের অজ্ঞানতা দূর করতে বদ্ধপরিকর। তার এই আত্মবিশ্বাস, কুসংস্কার দূর করার প্রত্যয় ও নিন্দুকের কথায় কান না দিয়ে সত্যে অটল থাকার মানসিকতা 'আমার পথ' প্রবন্ধের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী মানসিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর তাৎপর্য 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূলভাবনাকে ইঙ্গিত করে।”—উক্তিটি যথার্থ।
'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম আত্মজাগরণ, সত্যে অবিচল থাকা, স্বাবলম্বিতা এবং সমাজ থেকে কুসংস্কার ও মেকি পরনির্ভরশীলতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রাবন্ধিকের মতে, মানুষ যখন নিজের সত্যকে মেনে নিজের পথ নিজে তৈরি করে এবং সমাজ-সংস্কারে অটল থাকে, তখনই জাতির সার্বিক মুক্তি সম্ভব হয়। অন্য কারও অন্ধ তোষামোদি না করে সত্যের পথে চলাই মূল লক্ষ্য।
উদ্দীপকের সুভাষ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও কুসংস্কার রোধে ব্রতী হয়। অনেকেই তার কাজের সমালোচনা ও নিন্দা করলেও সুভাষ তার সুদৃঢ় আদর্শ ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি। কারণ সে জানে, জ্ঞানের আলোই সমাজের কুসংস্কার দূর করতে পারে। সুভাষের এই দৃঢ়তা মূলত নিজের ভেতরের বিবেক ও সত্যের শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
'আমার পথ' প্রবন্ধে কবিও ঠিক একইভাবে নিজের সত্যকে নেতা বানিয়ে ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং নিন্দুকের কথায় না দমে সমাজ পরিবর্তনের সংকল্পই প্রবন্ধটির কেন্দ্রবিন্দু, যা সুভাষের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও মানসিকতায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের বিষয়বস্তু সার্বিক অর্থে 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূলভাবনাকেই সার্থকভাবে ধারণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও