উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. জাবেদ একজন ঘড়ি প্রস্তুতকারক। তিনি "সান টাইমার" নামে একটি নতুন ঘড়ি বাজারে নিয়ে আসেন।অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে এটি এখন বাজারে সর্বোচ্চ বিক্রিত ঘড়ি। এতে মি. জাবেদ ও সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে পেরেছেন। ইদানিং বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নতুন ঘড়ি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করায় তিনি তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমতাবস্থায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর ঘড়ি বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় মি. জাবেদ ঘড়িটির উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন।
- ক)(1)
বর্ধিত পণ্য কি?
- খ)(2)
"ভোগ্য পণ্য স্বল্প পরিমাণে ক্রয় করা হয়"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে "সান টাইমার" পণ্যের জীবন চক্রের কোন স্তরে অবস্থান করছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর মি. জাবেদের ঘড়ির উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তটির সঠিক? তোমার মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল ও প্রকৃত পণ্যের অতিরিক্ত যেসব সুযোগ-সুবিধা ও সেবা ক্রেতাকে প্রদান করা হয়, তাকে বর্ধিত পণ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোগ্যপণ্য হলো সেসব পণ্য যা চূড়ান্ত ভোক্তারা তাদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভোগের জন্য ক্রয় করে থাকে।
ভোগ্যপণ্য ক্রেতারা সাধারণত দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ঘন ঘন এবং অল্প পরিমাণে ক্রয় করেন। এগুলোর একক প্রতি মূল্য তুলনামূলক কম হয় এবং ক্রেতারা এগুলো দীর্ঘদিনের জন্য মজুত করতে চান না বা সক্ষম হন না। ফলে ঝুঁকি ও পচনশীলতা এড়াতে এটি স্বল্প পরিমাণে ক্রয় করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে "সান টাইমার" পণ্যটি জীবনচক্রের 'পতন স্তরে' (Decline stage) অবস্থান করছে।
পণ্যের জীবনচক্রের যে স্তরে তীব্র প্রতিযোগিতা, বিকল্প পণ্যের আগমন বা ক্রেতার রুচির পরিবর্তনের কারণে পণ্যটির সামগ্রিক বিক্রয় ও মুনাফা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেতে থাকে, তাকে পতন স্তর বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, "সান টাইমার" ঘড়িটি পূর্বে সর্বোচ্চ বিক্রিত হয়ে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছিল (যা পূর্ণতা স্তর নির্দেশ করে)। কিন্তু বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নতুন ঘড়ি নিয়ে বাজারে আসায় তীব্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ঘড়িটির বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না ও তা হ্রাস পাচ্ছে। এই লক্ষণগুলো নির্দেশ করে যে পণ্যটি বর্তমানে পতন স্তরে রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমি মনে করি মি. জাবেদের ঘড়ির উৎপাদন সরাসরি বন্ধের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সঠিক বা যৌক্তিক নয়।
পণ্য জীবনচক্রের পতন স্তরে পৌঁছালে বা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে বিক্রয় হ্রাস পেলে শুরুতেই উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া একমাত্র বা বিচক্ষণ সমাধান নয়। এ স্তরে প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. পণ্যের উন্নয়ন ও পরিবর্তন: ঘড়ির নকশা, প্রযুক্তি (যেমন: স্মার্ট ফিচার যোগ করা) বা ধরনে আধুনিক পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
২. মূল্য সমন্বয় ও প্রচার কৌশল: প্রতিযোগীদের মোকাবিলার জন্য মূল্য পুনর্নির্ধারণ বা আকর্ষণীয় বিক্রয় প্রসারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।
৩. ব্যয় সংকোচন ও বাজার সংকোচন: কেবল অলাভজনক বাজার অংশ বা সংস্করণগুলো বাদ দিয়ে লাভজনক অংশে পণ্যটি চালু রাখা যেতে পারে।যদি সব ধরনের কৌশল ও বিপণন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পণ্যটি স্থায়ীভাবে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কেবল তখনই শেষ পদক্ষেপ হিসেবে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ (Harvesting or Divesting) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেহেতু মি. জাবেদ দ্রুতই উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই বিকল্প কৌশলগুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা না করে হুট করে উৎপাদন বন্ধ করা ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত বলা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও