সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
কলেজের ছাত্রী তমা দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সে অত্যন্ত মেধাবী। বর্তমানে ঠিকমতো কলেজে যেতে না পারায় তার মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ কলেজে যাওয়ার পথে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলো প্রায়ই অশালীন ইঙ্গিত করে ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলে। তমা লজ্জা আর ভয়ে এসবের প্রতিবাদই করতে পারছেনা।
- ক)(1)
BRAC-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
"কর্মজীবী মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে তমার সমস্যাটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সমস্যাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সমস্যাটি সমাজব্যবস্থায় কোন ধরনের প্রভাব ফেলে? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BRAC-এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কর্মজীবী মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে" বলতে কর্মক্ষেত্রে ও যাতায়াতের পথে নারীদের বিভিন্ন প্রকার শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক হয়রানির ঝুঁকির মধ্যে থাকাকে বোঝায়।
বর্তমান সমাজে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ঘরের বাইরে কাজ করলেও কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেক কর্মজীবী নারীকে কর্মস্থলে যৌন হয়রানি, অবমূল্যায়ন কিংবা পথিমধ্যে উত্ত্যক্তকরণ ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এছাড়া রাতে কাজ শেষ করে নিরাপদে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে গণপরিবহনেও তারা অনিরাপদ বোধ করেন। এই সামাজিক অসচেতনতা ও অপরাধমূলক আচরণের ফলেই কর্মজীবী মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তমার সমস্যাটি পাঠ্যবইয়ের অন্যতম মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি 'ইভটিজিং' বা 'উত্ত্যক্তকরণ' সমস্যাকে ইঙ্গিত করে।
সাধারণত রাস্তাঘাটে বা জনসমক্ষে কোনো নারী বা কিশোরীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করা, অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করা, ইঙ্গিত দেওয়া কিংবা মানসিক বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করাকে ইভটিজিং বা যৌন হয়রানি বলে। এটি নারীর স্বাভাবিক চলাফেরা ও মৌলিক মানবাধিকারকে ব্যাহত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কলেজের মেধাবী ছাত্রী তমা কলেজে যাওয়ার পথে রাস্তার মোড়ে কিছু বখাটে ছেলে দ্বারা অশালীন ইঙ্গিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হয়। লজ্জা ও ভয়ে সে এর প্রতিবাদ করতে পারে না, যার কারণে তার মানসিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায় এবং নিয়মিত কলেজে যাওয়া বিঘ্নিত হয়। এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে সমাজে প্রচলিত 'ইভটিজিং' বা যৌন হয়রানির স্বরূপকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ইভটিজিং' বা যৌন হয়রানির সমস্যাটি সমাজব্যবস্থায় গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রথমত, এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে অনেক মেধাবী ছাত্রী তমার মতো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে মেয়েদের অকালে বিয়ে দেন, যার ফলে সমাজে বাল্যবিবাহ ও মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়।
দ্বিতীয়ত, এটি নারীর মানসিক বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি সাধন করে। ভুক্তভোগী নারী লজ্জা, ভয় ও হীনম্মন্যতায় ভোগে এবং অনেক ক্ষেত্রে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেয়। এতে পরিবারে নেমে আসে অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক।
তৃতীয়ত, সার্বিক সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে গৃহবন্দী কিংবা নিরাপত্তাহীন রাখলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ছাড়া বখাটেদের এসব অপকর্ম সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি করে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়।
পরিশেষে বলা যায়, ইভটিজিং কেবল কোনো একক ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি সমগ্র সমাজব্যবস্থার শান্তি, প্রগতি ও নারীর অধিকারের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এ সমস্যা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও