সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
করোনা মহামারির সময়ে অনলাইনে ক্লাস করার জন্য অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাতে মোবাইল কিনে দেন। পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তাদের সন্তানেরা মোবাইলের যথাযথ ব্যবহার করে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে। কিন্তু অনেক অভিভাবকের খাম-খেয়ালিপনায় তাদের সন্তানেরা ইউটিউবে, ফেসবুকে বা মেসেঞ্জারে বন্ধু-বান্ধবের সাথে অযথা সময় কাটিয়েছে। এতে করে তাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়েছে, কেউবা পড়ালেখা থেকে ঝরে গেছে।
- ক)(1)
সামাজিকীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কোনটি?
- খ)(2)
বিশ্বায়ন কীভাবে বিশ্বের সকল মানুষকে একই ছাতার নিচে এনেছে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিকীকরণের মাধ্যম হিসেবে কোনটিকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বর্ণিত অবস্থা তথ্য প্রযুক্তির ফল- মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো পরিবার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বায়ন সমগ্র বিশ্বকে একটি একক সমাজে বা 'গ্লোবাল ভিলেজে' রূপান্তর করে বিশ্বের সকল মানুষকে একই ছাতার নিচে এনেছে।
বিশ্বায়নের ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব সংকুচিত হয়ে গেছে। ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট টিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ মুহূর্তেই অপর প্রান্তের মানুষের সাথে ভাব, জ্ঞান, সংস্কৃতি ও তথ্য বিনিময় করতে পারছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে একটি সমন্বিত বিশ্বব্যবস্থায় আবদ্ধ হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিকীকরণের মাধ্যম হিসেবে প্রধানত 'গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি' (মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে 'পরিবার'-এর ভূমিকা নির্দেশ করা হয়েছে।
আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট তথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সামাজিকীকরণের অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি ব্যক্তির আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনা এবং জ্ঞানার্জনে গভীর প্রভাব ফেলে। তবে এ মাধ্যমের ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করতে পরিবার নামক আদি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিহার্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহামারির সময়ে অনলাইনে ক্লাসের উদ্দেশ্যে অভিভাবকদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন আসে। যেসব পরিবারে সঠিক তত্ত্বাবধান ছিল, সেখানে প্রযুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রেখে ভালো ফলাফলে সাহায্য করেছে। পক্ষান্তরে নিয়ন্ত্রণের অভাবে তা ফেসবুক ও ইউটিউবে অযথা সময় অপচয়ের কারণ হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকটিতে মূলত সামাজিকীকরণের আধুনিক মাধ্যম হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের প্রভাবকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণিত অবস্থা তথ্যপ্রযুক্তির দ্বিমুখী প্রভাবের একটি বাস্তব প্রতিফলন—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মানবজাতির জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ হলেও এর অতিরিক্ত ও অসচেতন ব্যবহার মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের ফলাফলই উদ্দীপকে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
১. তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক দিক: করোনা মহামারির মতো মহাসংকটে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তখন মোবাইল ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির কল্যাণে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পেরেছে। পরিবারের সঠিক নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এটি তথ্যপ্রযুক্তির সুফলকে প্রমাণ করে।
২. তথ্যপ্রযুক্তির নেতিবাচক দিক: তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহারের দিকটিও উদ্দীপকে দৃশ্যমান। অভিভাবকের অসচেতনতার সুযোগে অনেক শিক্ষার্থী ইউটিউব, ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে আসক্ত হয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে। ফলে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ নষ্ট হয়েছে, ফলাফল খারাপ হয়েছে এবং অনেকে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়েছে। এটি প্রযুক্তি আসক্তির এক মারাত্মক কুফল।
পরিশেষে বলা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি নিজেই ভালো বা খারাপ নয়; বরং এর ব্যবহারের ধরনের ওপরই এর ফলাফল নির্ভর করে। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও সদ্ব্যবহার এটিকে গঠনমূলক করে তোলে এবং অসচেতন ব্যবহার ডেকে আনে বিপর্যয়, যা উদ্দীপকের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও