যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
১ম যুক্তিবাক্য→ সকল ছাত্র হয় মেধাবী। ২য় যুক্তিবাক্য→ কিছু ছাত্র হয় মেধাবী। ৩য় যুক্তিবাক্য কিছু ছাত্র নয় মেধাবী।
- ক)(1)
পদের ব্যক্ত্যর্থ কাকে বলে?
- খ)(2)
জাত্যর্থ ও জাত্যর্থক পদ কী একই অর্থবোধক?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোন যুক্তিবাক্যটি সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সকল যুক্তিবাক্যে 'মেধাবী' পদটির ব্যাপ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর প্রযোজ্য হয়, সেই বস্তু বা বস্তুসমূহের সমষ্টিকে ওই পদের ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) বলে। অর্থাৎ ব্যক্ত্যর্থ হলো পদের সংখ্যামূলক বা পরিমাণগত দিক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, জাত্যর্থ ও জাত্যর্থক পদ একই অর্থবোধক নয়।
'জাত্যর্থ' হলো কোনো পদের আবশ্যিক, সাধারণ ও মৌলিক গুণ বা গুণসমূহের সমষ্টি, যা কোনো শ্রেণির সকল সদস্যের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। অন্যদিকে, 'জাত্যর্থক পদ' হলো এমন একটি পদ যা একই সঙ্গে কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করার পাশাপাশি তার আবশ্যিক গুণকেও নির্দেশ করে (যেমন: 'মানুষ' পদটি জাত্যর্থক পদ, যার জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি')। অতএব, জাত্যর্থ নির্দেশ করে গুণকে এবং জাত্যর্থক পদ নির্দেশ করে বস্তু ও গুণের যৌথ প্রকাশকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ১ম যুক্তিবাক্যটি ("সকল ছাত্র হয় মেধাবী") সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য।
যুক্তিবিদ্যায় পরিমাণ অনুসারে যুক্তিবাক্য দুই প্রকার—সার্বিক ও বিশেষ; এবং গুণ অনুসারে দুই প্রকার—সদর্থক ও নঞর্থক। যে যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার করে, তাকে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য (A বাক্য) বলা হয়।
উদ্দীপকের ১ম যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ হলো 'ছাত্র' এবং বিধেয় পদ হলো 'মেধাবী'। সংযোজক 'হয়' থাকায় এটি সদর্থক। বাক্যটিতে 'সকল' শব্দের মাধ্যমে বিধেয় গুণটিকে সমগ্র ছাত্র শ্রেণির ওপর সরাসরি স্বীকার করা হয়েছে। কোনো অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। তাই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বিক সদর্থক (A) যুক্তিবাক্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের যুক্তিবাক্য তিনটিতে 'মেধাবী' পদটি বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পদসমূহের ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী এই পদটির ব্যাপ্যতা নিচে তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ১ম যুক্তিবাক্য: "সকল ছাত্র হয় মেধাবী"। এটি একটি সার্বিক সদর্থক (A) যুক্তিবাক্য। ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুসারে, সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ সর্বদা অব্যাপ্য হয়। এখানে 'মেধাবী' পদটি কেবলমাত্র ছাত্র শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়েছে, সামগ্রিক মেধাবী সম্প্রদায়কে নিঃশেষ করেনি। তাই ১ম বাক্যে 'মেধাবী' পদটি অব্যাপ্য।
২. ২য় যুক্তিবাক্য: "কিছু ছাত্র হয় মেধাবী"। এটি একটি বিশেষ সদর্থক (I) যুক্তিবাক্য। নিয়ম অনুসারে, বিশেষ সদর্থক বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য। যেহেতু বাক্যটি সদর্থক, তাই বিধেয় পদ 'মেধাবী' এখানেও তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে ব্যবহৃত হয়নি। ফলে ২য় বাক্যেও 'মেধাবী' পদটি অব্যাপ্য।
৩. ৩য় যুক্তিবাক্য: "কিছু ছাত্র নয় মেধাবী"। এটি একটি বিশেষ নঞর্থক (O) যুক্তিবাক্য। নিয়ম অনুসারে, নঞর্থক বাক্যের বিধেয় পদ সর্বদা ব্যাপ্য হয়। কারণ এই বাক্যে উদ্দেশ্য 'কিছু ছাত্র'-কে সমগ্র 'মেধাবী' শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থ থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক বা অস্বীকার করা হয়েছে। বিধেয়ের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থের সাথে উদ্দেশ্যের সম্পর্ক অস্বীকার করায় 'মেধাবী' পদটি এখানে সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থে প্রযুক্ত হয়েছে। অতএব, ৩য় বাক্যে 'মেধাবী' পদটি ব্যাপ্য।
সুতরাং, তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ১ম ও ২য় যুক্তিবাক্যে সদর্থক গুণের কারণে 'মেধাবী' পদটি অব্যাপ্য হলেও ৩য় যুক্তিবাক্যে নঞর্থক গুণের কারণে এটি ব্যাপ্য হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও