বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

তারুণ্য অপরাজেয়, নির্ভীক। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপদকে পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত। এদের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহানমন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত সংঘাতের মধ্যে রক্ত-শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। যা আমরা দেখেছি ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে, ৬৯ আর ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে। এ চেতনার প্রতিফলন দেখেছি ২৪ শের জুলাই-আগস্টের গণ আন্দোলনে। বাঁক বদলের ইতিহাসে তারুণ্যই অনিবার্য হাতিয়ার।

  1. ক)

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    "আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ"-কেন?

    (2)
  3. গ)

    'আঠারো বছর বসয়' কবিতার কোন দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    "এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।" কবির এই স্বপ্নই যেন রূপায়িত হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে।"- স্বীকার কর কি? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আঠারো বছর বয়সে নানা রকম পরিবর্তনের তীব্র আলোড়ন তৈরি হয় এবং যৌবনের ধর্ম অনুযায়ী তীব্র আবেগ, সংশয় ও যন্ত্রণা তীব্র হয়ে ওঠে বলে এ বয়সকে 'দুঃসহ' বলা হয়েছে।

    এ বয়সে কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের ফলে মানসিক ও শারীরিক এক বিশাল পরিবর্তন আসে। এ সময় তরুণদের মন তীব্র বেদনায় সংক্ষুব্ধ হতে থাকে, চারপাশের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রক্ত টগবগ করে ফোটে এবং তারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধাবোধ করে না। আবেগের তীব্রতা ও বাস্তবতার সংঘাতে এ বয়সটি অত্যন্ত জটিল ও দুঃসহ হয়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা, দুঃসাহসী মনোভাব ও আত্মত্যাগের দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

    সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় তারুণ্যের ইতিবাচক ও তেজস্বী রূপ তুলে ধরা হয়েছে। এ বয়সের যুবকরা কোনো বাধার কাছে মাথা নত করে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক ফুলিয়ে দাঁড়ায় এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজনে হাসিমুখে প্রাণ বিসর্জন দিতে পারে। তাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতাই সমাজের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, তারুণ্যকে অপরাজেয় ও নির্ভীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তারা সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং আত্মত্যাগের রক্ত-শপথ নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে তরুণদের এই বলিষ্ঠ আত্মত্যাগের যে ভূমিকা, তা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ত্যাগ ও প্রতিবাদের দিকের সাথেই হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।"—কবির এই স্বপ্নই যেন রূপায়িত হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে—মন্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারোর ইতিবাচক ও সংগ্রামী শক্তিকে দেশ ও জাতির মুক্তির প্রেরণা হিসেবে দেখেছেন। সমস্ত স্থবিরতা, জড়তা, ভীরুতা ও পরাধীনতাকে ভেঙে চুরমার করার শক্তি একমাত্র তরুণদেরই রয়েছে। এ কারণে কবিতার শেষে কবি প্রার্থনা করেছেন যেন দেশের বুকে তারুণ্যের এই অদম্য তেজ, গতি ও সংগ্রামী চেতনা নেমে আসে।

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক বদলের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ ও ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন—সবক্ষেত্রেই তরুণদের অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছে। তারুণ্যের এ দুঃসাহস ও আত্মবলিদান জাতিকে বারবার নতুন মুক্তির দিশা দেখিয়েছে।

    অতএব, কবি সুকান্ত যে সংগ্রামী, নির্ভীক ও অন্যায়-প্রতিরোধী তারুণ্যের প্রত্যাশা করেছিলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কবির সেই স্বপ্নই বারবার বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ ও সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন