পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয় • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বিগত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।এর ফলে বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মতো রাষ্ট্রগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পৃথিবীতে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও বাড়ছে, যা মানব জীবনকে হুমকির সম্মুখীন করে তুলছে।
- ক)(1)
CFC-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
ইভটিজিং বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন নাগরিক সমস্যাটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সমস্যা সমাধানে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
CFC-এর পূর্ণরূপ হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (Chlorofluorocarbon)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইভটিজিং বলতে সাধারণত কোনো নারী বা কিশোরীকে উদ্দেশ্য করে রাস্তাঘাটে বা প্রকাশ্যে অবাঞ্ছিত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, কটূক্তি, অঙ্গভঙ্গি, উপহাস বা উত্ত্যক্ত করাকে বোঝায়। এটি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধ, যা নারীর মানসিক নিরাপত্তা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান নাগরিক সমস্যা হিসেবে 'জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন' (Global Warming and Climate Change)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিগত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এর কারণে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মতো নিম্নাঞ্চলীয় দেশগুলো ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি মূলত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণেরই প্রত্যক্ষ ফলাফল। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বৃক্ষনিধন ও গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে বৈশ্বিক জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যা মানব জীবনের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে নাগরিকদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। এ বিষয়ে নাগরিকদের করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ: ব্যাপক হারে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করা উচিত, কারণ গাছ বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে।
২. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস: কয়লা, পেট্রোল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৩. সিএফসি ও ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে সতর্ক হওয়া এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেষ্ট হওয়া।
৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিক বর্জন: একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী বর্জন করা এবং বর্জ্য রিসাইক্লিং ও সঠিক স্থানে অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৫. গণসচেতনতা তৈরি: পরিবেশ রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।পরিশেষে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল সরকারের একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়িত্বশীল আচরণ ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রাই পারে পৃথিবীকে এ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও