সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব নজরুল উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান ক্লাসে একটি অধ্যায় পড়াতে গিয়ে বললেন, "আজকে আমি কতকগুলো সালের কথা বলব যার সাথে একজন নেতা ও একটি জাতির মুক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা জড়িয়ে আছে।" এ সময় তিনি ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ও ১৯৭১ সালের কথা বলেন এবং সেগুলোকে ব্যাখ্যা করেন। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বলল, "সত্যি! উক্ত জাতির মুক্তি ও উক্ত সালগুলো পরস্পর জড়িয়ে আছে।"

  1. ক)

    কোনটিকে 'বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' বলে অভিহিত করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ভাষা আন্দোলনের মাঝে নিহিত ছিল- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন নেতার দিকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, উক্ত জাতির মুক্তি ও উক্ত সালগুলো পরস্পর জড়িয়ে আছে- বক্তব্যটি কতটুকু যৌক্তিক? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবিকে 'বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' (ম্যাগনাকার্টা) বলে অভিহিত করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকার করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথম তাদের স্বাধিকার ও আত্মপরিচয় রক্ষার তাগিদ অনুভব করে। রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার মাধ্যমে বাঙালির মনে ধর্মভিত্তিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবেই ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে নিজের স্বকীয়তায় উদ্বুদ্ধ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে শিক্ষক জনাব নজরুল ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালের কথা উল্লেখ করেন। এই প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত ভূমিকা ছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি জেলে অবস্থান করেও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং অনশন পালন করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' কর্মসূচি পেশ করেন, যা বাঙালির স্বাধিকারের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের ফলে তিনি তথাকথিত 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' থেকে নিঃশর্ত মুক্তি পান এবং বাঙালি জাতি তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে। অবশেষে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অবিস্মরণীয় ভাষণ এবং তাঁর ডাকেই সমগ্র জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত সালসমূহ ও জাতির মুক্তির ইতিহাসের সাথে সরাসরি জড়িত নেতা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য—"উক্ত জাতির মুক্তি ও উক্ত সালগুলো পরস্পর জড়িয়ে আছে"—সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং যথার্থ।

    বাঙালি জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি; বরং তা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, যার প্রধান মাইলফলক ছিল উল্লিখিত সালগুলো:
    ১. ১৯৫২ সাল: ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের শুভ সূচনা হয়, যা ছিল পাকিস্তানি শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম সফল গণসংগ্রাম।
    ২. ১৯৬৬ সাল: বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' আন্দোলন বাঙালি জাতিকে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকারের চূড়ান্ত চেতনায় জাগ্রত করে। একে বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়।
    ৩. ১৯৬৯ সাল: ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত নড়ে ওঠে, যা বাঙালিদের বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে।
    ৪. ১৯৭১ সাল: ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি অর্জন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

    সুতরাং দেখা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষার লড়াই থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় একটির সাথে আরেকটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। অতএব, শিক্ষার্থীদের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন