পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মার্কিন সংবিধানের ন্যায় বাংলাদেশ সংবিধান ও নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের অপরিহার্য বিষয়াবলি সংযোজিত হয়েছে।
- ক)(1)
ন্যায়পাল কী?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়গুলি থেকে দুটি বিষয় ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়গুলোর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ন্যায়পাল (Ombudsman) হলেন এমন একজন কর্মকর্তা বা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যিনি সরকারি বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নাগরিকদের আনীত দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক অধিকার হলো সেইসব সুযোগ-সুবিধা যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য এবং যা রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত থাকে। এগুলো আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য এবং রাষ্ট্রও এই অধিকারসমূহ হরণ বা লঙ্ঘন করতে পারে না; যেমন—বাকস্বাধীনতা, জীবনের অধিকার, সাম্যের অধিকার ইত্যাদি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মার্কিন সংবিধান ও বাংলাদেশ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত 'নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের অপরিহার্য বিষয়াবলি' অর্থাৎ মৌলিক অধিকারের ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত এমন দুটি মৌলিক অধিকার নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের কারণে কারো প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।
২. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়গুলো হলো সংবিধানে সন্নিবেশিত মৌলিক অধিকার। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিকদের সার্বিক বিকাশের জন্য এসব মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্যক্তিত্বের বিকাশ: মৌলিক অধিকার ব্যক্তির প্রতিভা, মেধা ও সুকুমার বৃত্তির পূর্ণ বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করে। বাক-স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও পেশা গ্রহণের স্বাধীনতা ব্যক্তির আত্মউন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
২. সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: সংবিধানে প্রদত্ত সাম্যের অধিকার ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সমান মর্যাদা দেয় এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
৩. শাসকের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ: মৌলিক অধিকার সংবিধান কর্তৃক সংরক্ষিত এবং বিচার বিভাগ কর্তৃক বলবৎযোগ্য হওয়ায় সরকার বা কোনো কর্তৃপক্ষ চাইলেই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে না। ফলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪. গণতন্ত্রের সুরক্ষা: মৌলিক অধিকার ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। সভা-সমিতি, সংগঠন ও মতপ্রকাশের অধিকার নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে।সুতরাং, একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে এবং সুশাসন কায়েমে মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও