জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক ক্লাসে এক ধরনের জ্বরের কথা বললেন, যার কারণে রক্তের অণুচক্রিকা অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায় এবং এক ধরনের এককোষীয় অণুজীবের কথা বললেন যার সংক্রমণে যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ক)(1)
ইমার্জিং ভাইরাস কী?
- খ)(2)
হেপাটাইটিসকে তুষের আগুণ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গাণুতে এককোষী অণুজীবটির সংখ্যাবৃদ্ধি রেখাচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জ্বরের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ভাইরাস অতীতে কোনো নির্দিষ্ট পোষকে সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু সম্প্রতি পোষক প্রজাতি পরিবর্তন করে নতুন প্রজাতিতে সংক্রমণ ঘটিয়ে মহামারি বা মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে, তাদের ইমার্জিং ভাইরাস বলে (যেমন- এইচআইভি, সার্স-করোনাভাইরাস ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসকে প্রধানত ‘তুষের আগুন’ বলা হয়। কারণ এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রাথমিক অবস্থায় কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। তুষের আগুন যেমন বাইরে থেকে দেখা যায় না কিন্তু ভেতরে ভেতরে নীরবে সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, তেমনি হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসও দীর্ঘসময় ধরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করে সুপ্ত অবস্থায় মানবদেহের যকৃতে অবস্থান করে এবং ভেতরে ভেতরে যকৃতের কোষসমূহ ধ্বংস করে একসময় লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত যকৃতে আক্রমণকারী এককোষী অণুজীবটি হলো ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium)। মানবদেহের যকৃত কোষে সংঘটিত এই অণুজীবটির অযৌন সংখ্যাবৃদ্ধি প্রক্রিয়াকে ‘হেপাটিক সাইজন্ট’ বা ‘হেপাটিক সাইজোগনি’ বলা হয়।
হেপাটিক সাইজোগনি মূলত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
১. প্রি-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি:- স্পোরোজয়েট দশা: সংক্রমিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার দংশনের মাধ্যমে স্পোরোজয়েট রক্তস্রোতে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৩০-৬০ মিনিটের মধ্যে যকৃতে পৌঁছায়।
- ক্রিপ্টোজয়েট ও সাইজন্ট: যকৃত কোষে স্পোরোজয়েট গোলাকার হয়ে ক্রিপ্টোজয়েটে পরিণত হয়। এরপর এর নিউক্লিয়াস বারবার মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত সাইজন্ট গঠন করে।
- ক্রিপ্টোমেরোজয়েট: সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াস সাইটোপ্লাজম দ্বারা আবৃত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্রিপ্টোমেরোজয়েট গঠন করে, যা যকৃত কোষ বিদীর্ণ করে বাইরে বের হয়ে আসে।
২. এক্সো-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি:
- মেটাক্রিপ্টোজয়েট: ক্রিপ্টোমেরোজয়েট নতুন যকৃত কোষে প্রবেশ করে মেটাক্রিপ্টোজয়েট গঠন করে।
- দ্বিতীয় পর্যায়ের সাইজন্ট ও মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট: এগুলো পুনরায় বিভাজিত হয়ে সাইজন্ট গঠন করে এবং পরবর্তীতে দুই ধরনের মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট (মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট ও ম্যাক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট) তৈরি করে। ক্ষুদ্র মাইক্রোগুলো লোহিত রক্তকণিকাকে এবং বৃহৎ ম্যাক্রোগুলো পুনরায় নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে।
রেখাচিত্র:
স্পোরোজয়েট (যকৃতে প্রবেশ) → ক্রিপ্টোজয়েট → সাইজন্ট → ক্রিপ্টোমেরোজয়েট (যকৃত কোষ বিদীর্ণ) → নতুন যকৃত কোষে প্রবেশ → মেটাক্রিপ্টোজয়েট → সাইজন্ট → মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট (মাইক্রো ও ম্যাক্রো) → রক্তস্রোতে লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রক্তে অণুচক্রিকা (Platelet) হ্রাস পাওয়ার মতো মারাত্মক লক্ষণযুক্ত জ্বরটি হলো ‘ডেঙ্গু জ্বর’, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের (Flavivirus) সংক্রমণে এবং এডিস মশার কামড়ে ঘটে থাকে। নিচে এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করা হলো:
ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিকার:
১. সম্পূর্ণ বিশ্রাম: রোগীকে পর্যাপ্ত শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে থাকতে হবে।
২. তরল খাবার গ্রহণ: পানিশূন্যতা রোধে রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ফলের রস খেতে দিতে হবে।
৩. জ্বর নিয়ন্ত্রণ: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অ্যাসপিরিন বা ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs) খাওয়া যাবে না, কারণ এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. রক্তচাপ ও প্লাটিলেট পর্যবেক্ষণ: নিয়মিত প্লাটিলেট কাউন্ট ও হেমাটোক্রিট পরীক্ষা করতে হবে। প্লাটিলেট আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে বা রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে শিরাপথে স্যালাইন বা ক্ষেত্রবিশেষে প্লাটিলেট/রক্ত দিতে হবে।ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ:
১. মশার প্রজননস্থল ধ্বংস: এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা, ড্রাম বা ছাদে জমে থাকা পানি প্রতি ৩ দিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে (‘তিন দিনের জমা পানি ফেলে দিন’ নীতি)।
২. মশা নিধন: লার্ভিসাইড ও কীটনাশক স্প্রে বা ফগিংয়ের মাধ্যমে এডিস মশা এবং এর লার্ভা ধ্বংস করতে হবে।
৩. মশারি ব্যবহার: এডিস মশা সাধারণত দিনে (বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে) কামড়ায়। তাই দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানাতে হবে।
৪. আত্মরক্ষা ও সচেতনতা: শরীর ঢেকে থাকে এমন ফুলহাতা পোশাক ও ফুলপ্যান্ট পরিধান করা, জানালায় নেট লাগানো, এবং মশা তাড়ানোর লোশন/কয়েল ব্যবহার করা উচিত। সামগ্রিকভাবে পারিবারিক ও সামাজিক পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও