পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জাতি - রাজনৈতিক সংগঠন = ?
- ক)(1)
Natus শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন"- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে কী বসবে? তার যে কোন চারটি উপাদান বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির সাথে দেশপ্রেমের সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাটিন 'Natus' শব্দের অর্থ হলো 'জন্ম' (Birth)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন, কারণ সাম্য ছাড়া সমাজে স্বাধীনতার সুফল সবাই সমানভাবে ভোগ করতে পারে না।
সমাজে যদি সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সাম্য না থাকে, তবে ধনী ও প্রভাবশালী শ্রেণি দরিদ্র ও দুর্বলদের ওপর শোষণ-বঞ্চনা চালায়। ফলে দরিদ্রদের কাছে স্বাধীনতা অর্থহীন ও অলীক ধারণায় পরিণত হয়। সাম্য সমাজের সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে স্বাধীনতার ধারণাকে অর্থবহ ও সার্থক করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে বসবে 'জাতীয়তা' (Nationality)। কারণ, রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনসমাজকে জাতি (Nation) বলে, অর্থাৎ জাতি = জাতীয়তা + রাজনৈতিক সংগঠন। সুতরাং, জাতি - রাজনৈতিক সংগঠন = জাতীয়তা।
জাতীয়তার চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন একসাথে বসবাসের ফলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধন গড়ে ওঠে, যা জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে সহায়ক।
২. বংশগত ঐক্য: একই বংশোদ্ভূত বা রক্তের সম্পর্কে সম্পর্কিত জনসমাজ নিজেদের এক ও অভিন্ন মনে করে, যা তাদের মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবাদী অনুভূতির জন্ম দেয়।
৩. ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐক্য: একই ভাষায় কথা বলা এবং অভিন্ন শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা মানুষের মনোজগতে গভীর ঐক্যের সৃষ্টি করে।
৪. ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ঐক্য: একটি জনসমষ্টির অতীত সুখ-দুঃখের স্মৃতি, সংগ্রাম ও সাধারণ রাজনৈতিক ইতিহাস তাদের একটি অভিন্ন জাতীয়তাবোধে আবদ্ধ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো 'জাতীয়তা'। জাতীয়তার সাথে দেশপ্রেমের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও নিবিড়।
জাতীয়তা হলো মূলত এক ধরনের মানসিক অনুভূতি। একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূত্রে আবদ্ধ হয়ে কোনো জনসমাজ যখন নিজেদের অন্যদের থেকে আলাদা এবং পরস্পরের প্রতি একাত্ম মনে করে, তখন তাকে জাতীয়তাবোধ বলে। অন্যদিকে, দেশপ্রেম হলো নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা।
জাতীয়তাবোধই মূলত দেশপ্রেমের মূল উৎস ও ভিত্তি। জাতীয়তাবোধ যখন একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাগ্রত হয়, তখন তাদের মধ্যে নিজ দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়। একটি জাতির স্বাধীনতা অর্জন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় উন্নয়নে দেশপ্রেম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে, যার ভিত গড়ে তোলে জাতীয়তাবোধ। তবে জাতীয়তাবোধ যদি উগ্র রূপ ধারণ করে, তবে তা সংকীর্ণ হয়ে বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হতে পারে। পক্ষান্তরে, প্রকৃত দেশপ্রেম নিজের দেশকে ভালোবাসার পাশাপাশি অন্যান্য জাতির প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। সুতরাং, জাতীয়তা ও দেশপ্রেম পরস্পরের পরিপূরক এবং একটি ছাড়া অন্যটি অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও