ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

পবিত্র কুরআনে পূর্ববর্তী জাতিদের নানা ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। এতে এমন একটি জাতির কথা বলা হয়েছে যারা অসংখ্য নবীর সান্নিধ্য লাভ করলেও বার বার কুফরি করেছে। তারা অনেক নিয়ামত লাভ করলেও তার শোকরিয়া আদায় করেনি। বিশেষত একজন নবীর কিছুদিনের অনুপস্থিতির সুযোগে তারা গো-বৎস পুজা শুরু করেছিল।

  1. ক)

    الْغَيْبُ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    ذلِكَ الْكِتَبُ لَا رَيْبَ فِيهِ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত নবি কে? বুঝিয়ে লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাতির অনুসরণে মানবজীবনে কীরূপ প্রভাব পড়বে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'الْغَيْبُ' (আল-গায়ব) শব্দের অর্থ হলো অদৃশ্য, অদেখা বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এমন বিষয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ذلِكَ الْكِتَبُ لَا رَيْبَ فِيهِ' এর অর্থ হলো—'এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই'।

    এটি সুরা আল-বাকারার দ্বিতীয় আয়াতের অংশ। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য বাণী। এর ভাব, ভাষা, বিধান, অতীত-ভবিষ্যতের সংবাদ এবং তাওহিদ-রিসালাত সম্পর্কিত কোনো বিষয়েই কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই। এটি নির্ভুল ও মানবজাতির জন্য চিরন্তন হেদায়েতস্বরূপ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত নবি হলেন হজরত মুসা (আ.)।

    উদ্দীপকে যে জাতির কথা বলা হয়েছে, তা হলো বনি ইসরাইল জাতি। হজরত মুসা (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে তাওরাত কিতাব গ্রহণের জন্য তুর পর্বতে চল্লিশ দিনের জন্য অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে সামেরি নামক এক ব্যক্তির প্ররোচনায় বনি ইসরাইল সম্প্রদায় স্বর্ণনির্মিত একটি বাছুর তৈরি করে এবং তার পূজা শুরু করে। হজরত মুসা (আ.) তুর পর্বত থেকে ফিরে এসে নিজ সম্প্রদায়কে শিরক ও গো-বৎস পূজায় লিপ্ত দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও দুঃখিত হন। সুতরাং, উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকা যে নবির কথা বলা হয়েছে, তিনি হলেন হজরত মুসা (আ.)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাতি হলো বনি ইসরাইল, যারা আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত লাভ এবং নবিদের সান্নিধ্য পাওয়া সত্ত্বেও বারবার অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল। এ জাতির অনুসরণে মানবজীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়বে।

    প্রথমত, ঈমান ও তাওহিদের ভিত্তি বিনষ্ট হবে। বনি ইসরাইলের মতো আচরণ মানুষকে শিরক, কুফরি ও অকৃতজ্ঞতার দিকে ধাবিত করে। তাদের অনুসরণ করলে মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতের শোকর আদায় না করে পাপাচারে লিপ্ত হবে।

    দ্বিতীয়ত, আল্লাহর অসন্তোষ ও শাস্তি অবধারিত হবে। ইতিহাসে বনি ইসরাইল জাতি আল্লাহর অবাধ্যতা, নবীদের অবমাননা ও হত্যা এবং চুক্তি ভঙ্গের কারণে পৃথিবীতে লাঞ্ছিত ও পথভ্রষ্ট হয়েছিল। বর্তমান মানবসমাজেও তাদের মতো আচরণ করলে মানুষের ওপর আল্লাহর রহমত উঠে যাবে এবং পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ও আখিরাতে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করতে হবে।

    তৃতীয়ত, নৈতিক অবক্ষয় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, সুযোগ পেলেই সত্য ত্যাগ করে মিথ্যার পেছনে ছোটা এবং খোদাদ্রোহিতা সমাজের পারস্পরিক আস্থা ও শান্তি ধ্বংস করে দেয়।

    সুতরাং, বনি ইসরাইল জাতির চরিত্র ও কর্মকাণ্ড অনুসরণ করলে মানবজীবনে ধর্মীয়, নৈতিক এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন