যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। এই গুণটির কারণে মানুষ অন্যান্য প্রাণী হতে আলাদা, আবার মানুষের বিচারক্ষমতা ও বিবেকবোধ রয়েছে। এইজন্য মানুষ বিশাল আকৃতির হিংস্র চতুষ্পদ প্রাণীকেও বশে আনতে পারে ।

  1. ক)

    জাত্যর্থ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'বিধেয়' এবং বিধেয়ক' এক নয় কেন? বুঝিয়ে লেখ ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মানুষকে অন্যান্য প্রাণী হতে আলাদা করার গুণটি কোন ধরনের বিধেয়ককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'বিচারক্ষমতা' এবং 'চতুষ্পদ' গুণটি দ্বারা যে সমস্ত বিধেয়ককে নির্দেশ করে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের আবশ্যিক ও সাধারণ গুণ বা গুণাবলিকে সেই পদের জাত্যর্থ (Connotation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যায় 'বিধেয়' এবং 'বিধেয়ক' এক নয়, কারণ এদের স্বরূপ ও প্রয়োগের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
    একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে 'বিধেয়' (Predicate) বলে। এটি কেবল একটি পদ, যা যেকোনো সাধারণ বা বিশিষ্ট পদ হতে পারে। অন্যদিকে, সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার পারস্পরিক সম্বন্ধের প্রকৃতিকে 'বিধেয়ক' (Predicable) বলে। বিধেয়ক কোনো একক পদ নয়, এটি একটি বিশেষ সম্পর্ক। তাছাড়া, বিধেয় নঞর্থক যুক্তিবাক্যেও থাকতে পারে, কিন্তু বিধেয়ক কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যেই বিদ্যমান থাকে। তাই বিধেয় এবং বিধেয়ক এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মানুষকে অন্যান্য প্রাণী হতে আলাদা করার গুণটি অর্থাৎ 'বুদ্ধিবৃত্তি' বিধেয়কের প্রকারভেদ হিসেবে 'লক্ষণ' বা 'বিভেদক লক্ষণ' (Differentia)-কে নির্দেশ করে।

    যে গুণ বা গুণাবলি একই জাতিভুক্ত একটি উপজাতিকে তার সমপর্যায়ের অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করে, তাকে লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ বলে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। এই গুণটির কারণে মানুষ অন্যান্য প্রাণী হতে আলাদা..."। এখানে 'জীব' হলো আসন্নতম জাতি এবং 'মানুষ' হলো একটি উপজাতি। মানুষ জীবজগতের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়েছে কেবল তার 'বুদ্ধিবৃত্তি' নামক বিশেষ গুণের কারণে। বুদ্ধিবৃত্তি হলো এমন একটি মৌলিক ও আবশ্যিক গুণ যা মানুষকে অন্যান্য প্রাণী (যেমন- গরু, ঘোড়া, বাঘ ইত্যাদি) থেকে স্বতন্ত্র পরিচয় দান করে। অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত এই গুণটি যৌক্তিক দৃষ্টিতে 'লক্ষণ' বা 'বিভেদক লক্ষণ'।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'বিচারক্ষমতা' এবং 'চতুষ্পদ' গুণ দুটি যথাক্রমে 'উপলক্ষণ' (Proprium) এবং 'অবান্তর লক্ষণ' (Accident)-কে নির্দেশ করে। নিচে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এ দুটি বিধেয়ক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. 'বিচারক্ষমতা' গুণটি হলো 'উপলক্ষণ':
    যে গুণ কোনো পদের মূল জাত্যর্থ বা সারসত্তা নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা উৎপন্ন হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। উদ্দীপকে মানুষের 'বিচারক্ষমতা ও বিবেকবোধ'-এর কথা বলা হয়েছে। মানুষের মূল জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। 'বিচারক্ষমতা' জাত্যর্থের অংশ না হলেও এটি মূল গুণ 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকেই যুক্তিযুক্তভাবে উদ্ভূত হয়। মানুষ বুদ্ধিসম্পন্ন বলেই ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে এবং বিবেকবোধ প্রয়োগ করতে পারে। ফলে 'বিচারক্ষমতা' জাত্যর্থজাত উপলক্ষণ।

    ২. 'চতুষ্পদ' গুণটি হলো 'অবান্তর লক্ষণ':
    যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থও নয় এবং জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও হয় না, অথচ কোনো কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে উপস্থিত থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকে 'হিংস্র চতুষ্পদ প্রাণী'-এর কথা বলা হয়েছে। 'চতুষ্পদ' বা চারটি পা থাকা কোনো কোনো প্রাণীর বৈশিষ্ট্য হলেও এটি প্রাণীর জাত্যর্থের অংশ নয় কিংবা প্রাণীর আবশ্যিক গুণাবলি থেকে নিঃসৃতও হয় না (যেমন- মানুষ বা পাখি চতুষ্পদ নয়)। এটি প্রাণীদের ক্ষেত্রে একটি অনির্দিষ্ট ও পরিবর্তনশীল বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য। তাই 'চতুষ্পদ' হলো অবান্তর লক্ষণ।

    সুতরাং দেখা যায়, যুক্তিবিদ্যার বিধেয়কের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী 'বিচারক্ষমতা' হলো উপলক্ষণ এবং 'চতুষ্পদ' হলো অবান্তর লক্ষণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন