‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

উৎপত্তিগত দিক থেকে 'জাতি' ও 'জাতীয়তা' বলতে একই বংশোদ্ভূত জনসমষ্টিকে বোঝানো হলেও আধুনিককালে জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। জাতি হচ্ছে জাতীয়তাবাদী চেতনারই ফসল। ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদ উন্মেষের ফলে।

  1. ক)

    জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে?

    (1)
  2. খ)

    দেশপ্রেম কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাতি ও জাতীয়তা গঠনের উপাদান ছাড়া তোমার পাঠ্যপুস্তকে আর কী কী উপাদান রয়েছে? উপাদানগুলো আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বা জনক হলেন নিকোলো মেকিয়াভেলি (Niccolo Machiavelli)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশপ্রেম বলতে নিজের দেশ ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আনুগত্য এবং জাতির স্বার্থে আত্মত্যাগের নিঃস্বার্থ মানসিকতাকে বোঝায়।

    দেশপ্রেম কেবল আবেগ নয়, এটি একজন নাগরিককে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃত দেশপ্রেমিক দেশের সংবিধান, আইন ও সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করেন এবং সংকটে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে জাতি (Nation) ও জাতীয়তার (Nationality) মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: জাতীয়তা মূলত একটি মানসিক বা মানসিক অনুভূতিভিত্তিক ধারণা। যখন কোনো জনসমষ্টি নিজেদের মধ্যে একাত্মবোধ করে এবং অন্যদের থেকে পৃথক ভাবে, তখন সেখানে জাতীয়তার জন্ম হয়। অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক সচেতনতাসম্পন্ন জনসমষ্টি যখন রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বা করার চূড়ান্ত প্রয়াস পায়, তখন তা জাতিতে পরিণত হয়।

    ২. রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব: জাতীয়তা অর্জনে সার্বভৌমত্ব অপরিহার্য নয়; এটি শুধুই একটি চেতনাবোধ। কিন্তু জাতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মুক্তি, স্বাধীনতা বা সার্বভৌম ক্ষমতা একটি অপরিহার্য উপাদান। যেমন—১৯৭১ সালের পূর্বে আমরা ছিলাম বাঙালি জাতীয়তা, কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে আমরা বাঙালি 'জাতি' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি।

    ৩. কাঠামোগত পর্যায়: জাতীয়তা হলো জাতি গঠনের প্রাথমিক বা পূর্ববর্তী স্তর। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, "জাতি হচ্ছে জাতীয়তাবাদী চেতনারই ফসল"। অর্থাৎ জাতীয়তাবাদী চেতনা সুসংগঠিত রূপ নিয়ে রাজনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে জাতিতে রূপ লাভ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জাতি ও জাতীয়তা গঠনের দুটি মৌলিক উপাদান হিসেবে 'ভাষা' ও 'সংস্কৃতি'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী জাতি ও জাতীয়তা গঠনের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. বংশগত ঐক্য: একই বংশোদ্ভূত বা রক্তের সম্পর্কযুক্ত জনসমষ্টির মধ্যে সহজেই গভীর ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিকভাবে এটি জাতীয়তার অন্যতম প্রাচীন উপাদান।

    ২. ভৌগোলিক ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন একত্রে বসবাস করার ফলে মানুষের মধ্যে হৃদ্যতা ও দেশপ্রেমমূলক অনুভূতির বিকাশ ঘটে, যা জাতীয়তা গঠনে সাহায্য করে।

    ৩. ধর্মীয় ঐক্য: ধর্ম মানুষের অনুভূতিকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করে। একই ধর্মাবলম্বী হওয়ার অনুভূতি জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

    ৪. ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত ঐক্য: অভিন্ন অতীত স্মৃতি, সংগ্রাম, ঐতিহ্য, সুখ-দুঃখের স্মৃতি এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস একটি জনসমষ্টির মধ্যে গভীর মানসিক মেলবন্ধন তৈরি করে।

    ৫. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ঐক্য: অভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ, লক্ষ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমতা বা অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন একটি শক্তিশালী জাতীয়তা বোধ গঠনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত উপাদানগুলোর কোনো একটিও এককভাবে জাতি গঠন নিশ্চিত করতে পারে না; বরং এগুলোর একাধিক উপাদানের পারস্পরিক সমন্বয়ে ও যৌথ প্রভাবেই আধুনিক জাতি ও জাতীয়তার বিকাশ ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন