ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিয়ন লিজিং একটি বিখ্যাত ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর প্রত্যেকটি কাজ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভক্ত এবং কর্মীরা নিজ নিজ কর্মে বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন। গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ সব সিদ্ধান্তই প্রধান কার্যালয় থেকে গৃহীত হয়। এর ফলে অনেক কাজ ধীরগত সম্পন্ন হয় এবং মাঠ প্রশাসনের অসন্তোষ বিরাজ করে।
- ক)(1)
ব্যবস্থাপনা কি?
- খ)(2)
ব্যবস্থাপনাকে সার্বজনীন বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার কোন নীতির ব্যাখ্যা রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মাঠ প্রশাসনের অসন্তোষ দূরীকরণে নিয়ন লিজিং এর অনুসরণযোগ্য ব্যবস্থাপনার নীতি সুপারিশ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণসমূহের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকে ব্যবস্থাপনা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে, "ব্যবস্থাপনা হলো সার্বজনীন"। সার্বজনীন কথাটির অর্থ হলো যা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পরিবার, বিদ্যালয়, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক সংগঠন—অর্থাৎ যেকোনো দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনার নীতি ও কার্যক্রম অপরিহার্য। তাই স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মানুষের সমষ্টিগত সকল কাজেই এর প্রয়োগ দেখা যায় বলে ব্যবস্থাপনাকে সার্বজনীন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার 'শ্রম বিভাজন' বা 'কার্যবিভাজন' (Division of Work) নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে তার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে কর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করার নীতিকে শ্রম বিভাজন নীতি বলে। এর ফলে কর্মীরা একই কাজ বারবার করার মাধ্যমে বিশেষ যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নিয়ন লিজিং এর প্রতিটি কাজ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভক্ত এবং কর্মীরা নিজ নিজ কর্মে বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন। অর্থাৎ এখানে প্রতিষ্ঠানের কাজগুলোকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে কর্মীদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা হেনরি ফেয়ল বর্ণিত ব্যবস্থাপনার শ্রম বিভাজন নীতির সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাঠ প্রশাসনের অসন্তোষ দূরীকরণে নিয়ন লিজিং এর জন্য 'বিকেন্দ্রীকরণ' (Decentralization) নীতি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তর থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিয়মমাফিক বিভিন্ন স্তরে, বিশেষ করে নিম্ন ও মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে। অপরপক্ষে, সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা শীর্ষ ব্যবস্থাপনার হাতে পুঞ্জীভূত থাকাকে কেন্দ্রীকরণ বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নিয়ন লিজিং-এ গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ—সব সিদ্ধান্তই প্রধান কার্যালয় থেকে নেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটিতে মাত্রাতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ নীতি বিদ্যমান। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ দ্রুত সম্পাদন করা যায় না, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযথা বিলম্ব হয় এবং কর্মীদের কাজের উৎসাহ নষ্ট হয়ে মাঠ প্রশাসনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে কেন্দ্রীকরণের মাত্রা হ্রাস করে প্রয়োজনীয় মাত্রায় বিকেন্দ্রীকরণ নীতি প্রয়োগ করতে হবে। দৈনন্দিন ও স্থানীয় পর্যায়ের জরুরি সিদ্ধান্তের ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর অর্পণ করলে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং মাঠ প্রশাসনের কর্মীদের মধ্যে কাজের দায়িত্ববোধ ও সন্তোষ ফিরে আসবে। সুতরাং, বিকেন্দ্রীকরণ নীতি অনুসরণই এখানে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও