ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি কারখানায় সাম্যবাদী চেতনায় বিশ্বাসী শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাদের এ সংগ্রাম সফল হয়। ফলে কারখানায় বিদ্যমান নানা বৈষম্যের অবসান হয় এবং প্রতিষ্ঠা হয় সাম্যবাদের। এ ঘটনা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য কারখানাগুলোকেও প্রভাবিত করে।
- ক)(1)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয় কখন?
- খ)(2)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দুটি কারণ সংক্ষেপে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাথে। সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত সাম্যবাদী চেতনা পৃথিবীব্যাপী কী ধরনের প্রভাব। ফেলেছিল বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রধান দুটি কারণ হলো:
১. উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা: ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর মধ্যে উপনিবেশ বিস্তার ও অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার তীব্র প্রতিযোগিতা সংঘাত তৈরি করেছিল।
২. সামরিক চুক্তি ও জোট গঠন: ইউরোপের বৃহৎ শক্তিগুলো দুই বিবদমান সামরিক জোটে (ত্রিশক্তি মৈত্রী ও ত্রিশক্তি আঁতাত) বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যা স্থানীয় সংকটকে বিশ্বযুদ্ধে রূপ দেয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের ১৯১৭ সালের 'রুশ বিপ্লব' বা 'বলশেভিক বিপ্লব'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯১৭ সালে ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার বলশেভিক দল জারতন্ত্র ও বুর্জোয়াদের শোষণ-বৈষম্যের অবসান ঘটাতে কৃষক-শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে বিপ্লব সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে রাশিয়ায় শ্রমিক শ্রেণির শাসন এবং সাম্যবাদী বা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে যেমন একটি কারখানায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সফল সংগ্রাম এবং সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের মূল ভাবধারার প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সাম্যবাদী চেতনা পৃথিবীব্যাপী গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।
প্রথমত, এর ফলে বিশ্বব্যাপী শোষিত মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন বেগবান হয় এবং বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট পার্টি ও শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, এশিয়া ও আফ্রিকার পরাধীন দেশগুলোর উপনিবেশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে সাম্যবাদী আদর্শ বড় অনুপ্রেরণা জোগায়। তৃতীয়ত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পুঁজিবাদী ব্লক ও সমাজতান্ত্রিক ব্লকের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War)-এর জন্ম দেয়। এছাড়া পুঁজিবাদী দেশগুলোও সমাজতন্ত্রের প্রভাব ঠেকাতে শ্রমিকদের জন্য কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করতে বাধ্য হয়।
অতএব, সাম্যবাদী চেতনার প্রসার সমগ্র বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও