অর্থনীতি ২য় পত্র • জনসংখ্যা ও মানব সম্পদ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং নিচের প্রশ্নসমূহের উত্তর দাও :
- ক)(1)
কাম্য জনসংখ্যা কী?
- খ)(2)
প্রশিক্ষণ কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি জনসংখ্যার কোন তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত? তার ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চিত্রটি জনসংখ্যার যে তত্ত্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত তার দুর্বলতাসমূহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে যে জনসংখ্যায় সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় নিশ্চিত হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশিক্ষণ মানুষকে নির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান, আধুনিক কলাকৌশল ও কর্মদক্ষতা প্রদান করে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ মানুষ শ্রমবাজারে অধিক উৎপাদনশীল ও দক্ষ ব্যক্তিতে পরিণত হয়, যা শ্রমের গুণগত মান বৃদ্ধি করে এবং সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি বিখ্যাত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাসের 'জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Malthusian Theory of Population)-এর অন্তর্গত 'ম্যালথাসীয় চক্র' (Malthusian Cycle)-এর সাথে সম্পর্কিত।
ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ...) এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ...)। এর ফলে সমাজে খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় এবং জনাধিক্য সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, প্রাথমিক অবস্থায় 'খাদ্য এবং জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য' থাকলেও তা ভেঙে 'জনাধিক্যতা' সৃষ্টি হয়। মানুষ যদি স্বেচ্ছামূলক বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে 'প্রাকৃতিক নিরোধ' (যেমন—দুর্ভিক্ষ, মহামারি, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ) আঘাত হানে। প্রাকৃতিক নিরোধের ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা হ্রাস পায় এবং পুনরায় খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য ফিরে আসে। এই সামগ্রিক চক্রাকার প্রক্রিয়াটি চিত্রে 'MC' (Malthusian Cycle) হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত। ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিতে এই তত্ত্বটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বেশ কিছু মৌলিক দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গাণিতিক ও জ্যামিতিক বৃদ্ধির অবাস্তব অনুমান: ম্যালথাসের মতে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারে বাড়ে। কিন্তু বাস্তবে কোনো দেশেই এই নির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়মে জনসংখ্যা বা খাদ্য বাড়ে না।
২. কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান অগ্রাহ্য: ম্যালথাস ধরে নিয়েছিলেন কৃষিতে দ্রুত ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হবে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান, উচ্চফলনশীল বীজ, সার ও সেচ প্রযুক্তির ফলে খাদ্য উৎপাদন অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ম্যালথাসের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে।
৩. জনসংখ্যা কেবল মুখ নয়, হাতও বটে: ম্যালথাস জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে কেবল 'ভোগকারী বা উপভোক্তার মুখ' হিসেবে দেখেছেন। অথচ মানুষ দক্ষ শ্রমশক্তি বা উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর হতে পারে—এই দিকটি তিনি উপেক্ষা করেছেন।
৪. জীবনযাত্রার মান ও জন্মহার হ্রাসের সম্পর্ক: তিনি ভাবতেন মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়লে জন্মহার বাড়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান বাড়লে মানুষ সচেতন হয় এবং জন্মহার হ্রাস পায়।
৫. সম্পদের আন্তর্জাতিক স্থানান্তর: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ফলে খাদ্য ঘাটতিযুক্ত দেশ সহজেই খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে পারে, যা ম্যালথাস অনুধাবন করতে পারেননি।
পরিশেষে বলা যায়, বাস্তবসম্মত কিছু সতর্কতা থাকলেও বিভিন্ন অবাস্তব অনুমিতি ও ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতার কারণে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল হিসেবে সমালোচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও