পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
সুদানের উত্তর অংশের নেতারা ছিল দেশটির শাসক। দক্ষিণ অংশের উপর চলতো তাদের শাসন-শোষণ ও নির্যাতন। তারই ধারাবাহিকতায় উত্তর অংশের এক স্বৈরাচারী শাসক দক্ষিণ অংশের একজন জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেতাকে প্রধান আসামি করে কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করে। ফলে স্বৈরাচারী শাসকের এরূপ ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দক্ষিণ অংশের জনগণ প্রতিবাদ করতে থাকে। একপর্যায়ে জনগণের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। স্বৈরচারী শাসক ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
মওলানা ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মামলার সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত আন্দোলনের সাথে তোমার পঠিত আন্দোলনের ফলাফলের সাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সারাজীবন শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্যাতিত বা 'মজলুম' জনগণের পাশে নিঃস্বার্থভাবে আজীবন দাঁড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করার কারণে তাঁকে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'র (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) সাদৃশ্য রয়েছে।\n\nতৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শাসন-শোষণ চালাচ্ছিল। আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি যখন স্বাধিকার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে, তখন আইয়ুব খানের সামরিক সরকার তাকে স্তব্ধ করতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' শীর্ষক মামলা করা হয়।\n\nউদ্দীপকেও দেখা যায়, উত্তর অংশের স্বৈরাচারী শাসক দক্ষিণ অংশের জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেতাকে প্রধান আসামি করে অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে। এই প্রেক্ষাপটটি অবিকল আগরতলা মামলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের ফলাফলের সাথে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক 'গণঅভ্যুত্থান'-এর ফলাফলের গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।\n\nআগরতলা মামলার মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি ও ফাঁসি দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১১ দফা ও ৬ দফার ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান গড়ে ওঠে। পাকিস্তানি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন সত্ত্বেও আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে এবং ২৫ মার্চ পদত্যাগ করে সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন।\n\nউদ্দীপকেও দেখা যায়, মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলার বিরুদ্ধে দক্ষিণ অংশের জনগণের প্রতিবাদ গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসক ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সুতরাং, স্বৈরাচারী শাসকের পতন এবং গণদাবির বিজয়ের দিক থেকে উদ্দীপকের আন্দোলনের ফলাফলের সাথে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলাফলের পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও