বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
8.
(ক) একটি গ্রাম্যমেলা দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে দিনলিপি লেখ। অথবা,(খ) 'পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ' এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-লিখিত কাল্পনিক নমুনা। প্রশ্নে না-দেওয়া নাম, তারিখ, যোগাযোগ, সংখ্যা ও জরিপ/সাক্ষাৎকারের বিবরণ উদাহরণভিত্তিক অনুমান; বাস্তবে তথ্যসংগ্রহ করা হয়েছে এমন দাবি নয়।
(ক) গ্রাম্যমেলা দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে একটি দিনলিপি:
১৫ এপ্রিল, ২০২৪
রাত ১০:৩০ মিনিট
পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।
আজকের দিনটি আমার জীবনের এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। বৈশাখী উপলক্ষে আমাদের পাশের গ্রামে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা বসেছে। বিকেলে বন্ধুদের সাথে মেলা দেখতে গিয়েছিলাম। মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই চারপাশের কোলাহল, বাঁশির সুর আর নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ আওয়াজে মনটা আনন্দে ভরে উঠল। মাটির তৈরি তৈজসপত্র, কাঠের পুতুল, রঙিন খেলনা ও গৃহস্থালি জিনিসপত্রের সারি সারি দোকান দেখে বাংলার চিরায়ত লোকশিল্পের রূপটি চোখের সামনে ভেসে উঠল। এছাড়া জিলাপি, বাতাসা, কদমা আর খই-মুড়ির মিষ্টি গন্ধ মেলায় এক চমৎকার উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। নাগরদোলায় চড়া এবং বায়োস্কোপ দেখা ছিল আমার জন্য এক অসাধারণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। নগরায়ণের এ যুগে গ্রামবাংলার এমন মিলনমেলা মানুষকে আন্তরিকতার বন্ধনে এক করে তোলে। মেলা থেকে ছোট বোনের জন্য একজোড়া মাটির পুতুল কিনে সন্ধ্যার পর ঘরে ফিরি। দিনটি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দ ও তৃপ্তিতে কেটেছে।
অথবা,
(খ) 'পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ' শীর্ষক প্রতিবেদন:
তারিখ: ২০ এপ্রিল, ২০২৪
বরাবর,
সম্পাদক,
দৈনিক সংবাদ,
ঢাকা।
বিষয়: 'পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ' সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের জন্য 'পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ' শীর্ষক একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন নিচে উপস্থাপন করছি।
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বর্তমান পৃথিবীতে মানবজাতিসহ সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। আর এ সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর ও প্রাকৃতিক উপায় হলো ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ। পরিবেশবিদদের মতে, যেকোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক; অথচ আমাদের দেশে তা পর্যাপ্ত নয়।
বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। এটি বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অমূল্য অক্সিজেন সরবরাহ করে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের লোভের কারণে প্রতিনিয়ত বন উজাড় হচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা, বন্যা, নদীভাঙন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।
এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কেবল বন বিভাগের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, রাস্তার দুই পাশ, নদীর পাড় ও বসতবাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছ রোপণ করতে হবে। সেই সঙ্গে অবাধে বৃক্ষনিধন বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশের সুস্থতা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে এখনই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম: রাকিবুল হাসান
প্রতিবেদনের ধরন: প্রাতিষ্ঠানিক/সংবাদ প্রতিবেদন
স্থান: ঢাকা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও