ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য জমি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । তাঁর উদ্দেশ্য সৎ হলেও ইজারাদাররা বেশি রাজস্ব আদায়ের জন্য কৃষকদের উপর নির্যাতন চালাত। হেস্টিংসের এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে কর্নওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারদের সাথে চুক্তি করেন। এতে জমিদারগণ ভূমির মালিক ও কৃষকরা রায়তে পরিণত হয় ।
- ক)(1)
Utopiaগ্রন্থের লেখক কে?
- খ)(2)
জারতন্ত্র বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জমি-ইজারা দেওয়ার সাথে রাশিয়ার জ্যার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার গৃহীত কোন পদক্ষেপের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর
- ঘ)(4)
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সাথে স্ট্রোলিপিনের সংস্কারের তুলনা কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Utopia' গ্রন্থের লেখক হলেন ইংরেজ দার্শনিক ও লেখক স্যার টমাস মোর (Sir Thomas More)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাশিয়ার প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় একনায়কতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক রাজতন্ত্রকে 'জারতন্ত্র' বলা হয়। রাশিয়ার সম্রাটদের উপাধি ছিল 'জার' (Czar বা Tsar)। জারতন্ত্রে কোনো প্রকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না; জার ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং তাঁর ইচ্ছাই ছিল চূড়ান্ত আইন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ওয়ারেন হেস্টিংসের জমি-ইজারা দেওয়ার সাথে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের ১৮৬১ সালের ভূমি সংস্কার বা ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদের (Emancipation of the Serfs) পদক্ষেপের সাদৃশ্য রয়েছে।
জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ সালে এক রাজকীয় ঘোষণার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটান এবং কৃষকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা প্রদান করেন। তবে কৃষকদের যে জমি দেওয়া হয়েছিল, তার জন্য তাদের দীর্ঘমেয়াদে চড়া মূল্যে ক্ষতিপূরণ কিস্তি বা 'রিডেম্পশন পেমেন্ট' দিতে হতো এবং জমিগুলো ব্যক্তিগত মালিকানার বদলে গ্রাম্য পঞ্চায়েত বা 'মির' (Mir)-এর অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ওয়ারেন হেস্টিংস ভূমি ব্যবস্থার উন্নতি ও রাজস্ব আদায়ে জমি ইজারা দেওয়ার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করলেও মধ্যস্বত্বভোগী ইজারাদারদের অত্যাচারে কৃষকদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পায়। একইভাবে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের ভূমিদাস মুক্তি আইন কৃষকদের মুক্তির কথা বললেও ক্ষতিপূরণের কিস্তির বোঝা ও মিরের কর্তৃত্বের কারণে কৃষকদের অর্থনৈতিক দুর্দশা ও অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়। ফলে উভয় সংস্কারেই কৃষকদের প্রকৃত মুক্তি বা কল্যাণ মেলেনি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড কর্নওয়ালিশের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পিওতর স্টোলিপিনের (Pyotr Stolypin) ভূমি সংস্কারের মধ্যে উদ্দেশ্যের দিক থেকে ভিন্নতা এবং কৃষকের প্রভাবের দিক থেকে তুলনামূলক বৈপরীত্য ও সাদৃশ্য বিদ্যমান।
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশ বাংলায় 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের নির্দিষ্ট রাজস্ব নিশ্চিত করা এবং একটি অনুগত ভূস্বামী শ্রেণি গড়ে তোলা। এর ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিক হন এবং প্রকৃত চাষী বা কৃষকরা অধিকারহীন রায়তে পরিণত হয়।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পিওতর স্টোলিপিন ১৯০৬ সালে রাশিয়ায় ভূমি সংস্কার প্রবর্তন করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল গ্রাম্য সংস্থা 'মির'-এর যৌথ মালিকানা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে কৃষকদের ব্যক্তিমালিকানাধীন সমৃদ্ধ কৃষক শ্রেণি বা 'কুলাক' হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি চেয়েছিলেন ভূমিমালিকানার মাধ্যমে একটি রক্ষণশীল ও জার-ভক্ত কৃষক সমাজ গড়ে তুলে ভবিষ্যৎ বিপ্লব প্রতিরোধ করতে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে মধ্যস্বত্বভোগী জমিদাররা জমির একক মালিকানা পায় এবং সাধারণ কৃষকরা প্রজাস্বত্ব হারিয়ে শোষিত হয়। বিপরীতে, স্টোলিপিনের সংস্কারে কৃষকদের সরাসরি ব্যক্তিগত জমির মালিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে উভয়েরই মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল সরকারের প্রতি অনুগত একটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণি তৈরি করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও