‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। যেখানে বলা হয়েছে যে, "অধিকারের প্রশ্নে মানুষ স্বাধীন ও সমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং সবসময় সেভাবেই থাকতে চায়।"

  1. ক)

    কর্তব্য কী?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    ইজিাতকৃত সনদের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইঙ্গিতকৃত সনদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্তব্য হলো সমাজের সদস্য হিসেবে বা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির সেইসব দায়িত্ব বা আচরণ, যা সে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি পালন করতে বাধ্য থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংবিধানে স্বীকৃত এবং আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য অধিকারসমূহকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ এবং স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য এসব অধিকার অপরিহার্য। রাষ্ট্রের সরকার চাইলেই মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না এবং এর কোনো লঙ্ঘন হলে নাগরিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সনদটি হলো ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত 'সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' (Universal Declaration of Human Rights)। এর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. সর্বজনীনতা: এই সনদ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
    ২. মানবমর্যাদা ও সাম্য: সনদের মূল কথা হলো সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সমমর্যাদা ও সমঅধিকার সম্পন্ন।
    ৩. অধিকারের বিস্তৃতি: এতে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের (যেমন- জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, বাকস্বাধীনতা) পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার (যেমন- কাজের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা) স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
    ৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: এটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের অধিকার সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক মাপকাঠি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বজনীন মানবাধিকার সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলোর বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেয়। সুশাসনের মূল ভিত্তিই হলো নাগরিক যাতে নির্ভয়ে ও মর্যাদার সাথে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারে।

    প্রথমত, এই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হলে ব্যক্তির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমতা এবং জীবনের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকে, যা যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব। দ্বিতীয়ত, এটি সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং শাসককে জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। তৃতীয়ত, এ সনদে উল্লেখিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার বাস্তবায়ন করলে সমাজে বৈষম্য হ্রাস পায় ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সুশাসনের অন্যতম শর্ত।

    সুতরাং, সর্বজনীন মানবাধিকার সনদের নীতি ও আদর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন