ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফান্সের রাজা যোড়শ লুইয়ের স্বৈরাচারী। তাসন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। এ জোগানের তিনটি দাবিই হয়ে উঠেছিল ফরাসিদের প্রাণের দাবিতে। প্রমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হয় এবং জনগণ মুক্তি পায়।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল?
- খ)(2)
'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির। কোন দাবির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তোমার পঠিত উক্ত দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'তমদ্দুন মজলিশ' হলো ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত একটি ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম দিকের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, যার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা এবং বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ সাধন করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি জাতির প্রাণের দাবির সাথে বাঙালির অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবির গভীর মিল রয়েছে।
ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান ছিল 'স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব', যা বৈষম্য ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণমানুষের মুক্তি অর্জনের দাবি ছিল। একইভাবে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের শোষণ-বৈষম্য থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। ফরাসিদের দাবির মতো ৬ দফাও ছিল বাঙালির স্বাধিকার, স্বায়ত্তশাসন ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রাণের দাবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিফলিত স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকারের মূল ভিত্তি অর্থাৎ বাঙালির ঐতিহাসিক 'ছয়দফা দাবি'ই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে চূড়ান্তভাবে ত্বরান্বিত করেছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশে পরিণত হয়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ছয় দফা ছিল মূলত বাঙালির বাঁচার দাবি বা 'ম্যাগনা কার্টা'। এই দাবির মধ্য দিয়ে স্বায়ত্তশাসনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ঘোষিত হয়, যা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।
ছয় দফার জনসমর্থন দমন করতে আইয়ুব সরকার ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা দায়ের করে, যা ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দেয়। এর ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিরা ছয় দফার পক্ষে একচ্ছত্র ম্যান্ডেট প্রদান করে। পরবর্তীতে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সুতরাং, ছয় দফাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ এবং এটিই স্বাধীনতার পথকে সরাসরি ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও