‍ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

গ্রামের পতিত জমি দখলকে কেন্দ্র করে ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এক সময় এটা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত এক পক্ষ পরাজিত হলে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সংঘর্ষের অবসান হয়। তবে ততক্ষণে সংঘটিত হয় গ্রামের ইতিহাসের সর্বাধিক প্রাণহানি' ও ধ্বংসযজ্ঞের।

  1. ক)

    ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    ফরাসি বিপ্লবের তৃতীয় সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতাই এ ঘটনাটি সংঘটনের মূল কারণ- সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিল— সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা (Liberty, Equality, Fraternity)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাক-বিপ্লব ফ্রান্সে যাজক (প্রথম সম্প্রদায়) ও অভিজাত (দ্বিতীয় সম্প্রদায়) ব্যতীত কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী ও বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্তসহ অবশিষ্ট শতকরা ৯৮ ভাগ সাধারণ জনগণকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল তৃতীয় সম্প্রদায় (Third Estate)। এ সম্প্রদায়ের লোকরাই রাষ্ট্রের যাবতীয় কর প্রদান করত, অথচ তারা সকল প্রকার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে গ্রামের পতিত জমি দখলকে কেন্দ্র করে ধনী পরিবারগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পেছনে নানাবিধ গভীর কারণ বিদ্যমান ছিল। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
    ১. সাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উপনিবেশ বিস্তার: ইউরোপের বৃহৎ শক্তিবর্গ কাঁচামাল সংগ্রহ ও শিল্পপণ্যের বাজার দখলের জন্য এশিয়া ও আফ্রিকায় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে ওঠে।
    ২. উগ্র জাতীয়তাবাদ: ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্বার্থান্ধ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের উন্মেষ সংঘাতকে অনিবার্য করে তোলে।
    ৩. সামরিক জোট গঠন: ইউরোপ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে— একদিকে ত্রিশক্তি মৈত্রী (জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালি) এবং অন্যদিকে ত্রিশক্তি আঁতাত (ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া)।
    ৪. অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিকীকরণ: বৃহৎ শক্তিবর্গ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
    ৫. প্রত্যক্ষ কারণ: অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রীর বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে সার্বীয় সন্ত্রাসবাদী দ্বারা হত্যাকাণ্ড এ যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে কাজ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতাই উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনের মূল কারণ— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় সস্তা কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য শক্তিশালী দেশগুলোর কাছে উপনিবেশ স্থাপন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটেন ও ফ্রান্স আগে থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশাল উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে জার্মানি ও ইতালি ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিল্পায়নে দ্রুত অগ্রগতি লাভ করে এবং তারাও উপনিবেশ দখলের প্রতিযোগিতায় নামে।

    জার্মানির এই সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা ব্রিটেনের 'বিশ্ব প্রভুত্ব' এবং ফ্রান্সের স্বার্থের সাথে সরাসরি সংঘাত তৈরি করে। এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে নিজেদের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই লোভাতুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইউরোপের বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, শত্রুতা এবং সামরিক জোট গঠনের পথ সুগম করে। মরক্কো সংকট ও বলকান সংকট ছিল এই উপনিবেশ ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতারই বহিঃপ্রকাশ। পরিশেষে এই উপনিবেশ বিস্তারের আগ্রাসী মনোভাবই সমগ্র বিশ্বকে ১৯১৪ সালে এক বিধ্বংসী মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

    অতএব, সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, উপনিবেশ বিস্তারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনের মূল ও ভিত্তিগত চালিকাশক্তি ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন