বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কেউ মালা, কেউ তসবি গলায় তাইতে কী জাত ভিন্ন বলায়, যাওয়া কিংবা আসার বেলায় জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।
- ক)(1)
'বিলাসী' গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।”— ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকটিতে 'বিলাসী' গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বুঝিয়ে লেখ ।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি কি 'বিলাসী' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে?” তোমার অভিমত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিলাসী' গল্পটি প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত বাক্যটি দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে করতে পরিশ্রান্ত ও রোগশীর্ণ বিলাসীর নিস্তেজ, করুণ অথচ স্নিগ্ধ রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয় যখন কঠিন অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় ছিল, তখন বিলাসী একা প্রায় দেড় মাস ধরে নিরলস সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। একটানা রাতজাগা ও কঠোর শারীরিক-মানসিক পরিশ্রমে বিলাসীর শরীর ভেঙে পড়েছিল এবং মুখের লাবণ্য শুকিয়ে গিয়েছিল। ঠিক যেমন বাসি ফুল জল দিয়ে সতেজ রাখার চেষ্টা করলেও তার মূল সজীবতা মলিন হয়ে যায়, বিলাসীর শীর্ণ চেহারায় ক্লান্তির সেই করুণ ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে 'বিলাসী' গল্পের জাতিভেদ প্রথা এবং তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণ জাত্যাভিমানের অসারতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের বাউল গানে বলা হয়েছে, গলায় মালা বা তসবি পরার মতো বাহ্যিক আচার দিয়ে মানুষের জাত বা ধর্ম আলাদা করা যায় না; কারণ জন্ম বা মৃত্যুর সময় কোনো মানুষের জাতের চিহ্ন থাকে না। মানুষ মূলত এক এবং অনন্য।
'বিলাসী' গল্পেও দেখা যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের তথাকথিত জাত-পাতের কঠোর ও অমানবিক রূপ উন্মোচন করেছেন। কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়কে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে বাঁচিয়ে তুললেও সমাজ তাদের প্রেম ও মানবিক সম্পর্ককে মেনে নেয়নি; বরং জাত যাওয়ার অজুহাতে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করেছে এবং বিলাসীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। মানুষের মনুষ্যত্ব ও ভালোবাসার চেয়ে জাত-কুলকে বড় মনে করার এই সংকীর্ণতা ও কুসংস্কারের অসার দিকটিই উদ্দীপক ও গল্পে সমান্তরালভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য।
উদ্দীপকে লালন সাঁইয়ের গানের মাধ্যমে কেবল মানুষের বাহ্যিক জাত-ধর্মের ভেদাভেদের অসারতা এবং জন্ম-মৃত্যুর শাশ্বত সত্য তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু 'বিলাসী' গল্পটি কেবল জাতপাতের বিরোধিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রেক্ষাপট ও মূলভাব অত্যন্ত সুবিস্তৃত।
'বিলাসী' গল্পে একদিকে জাতপ্রথার অমানবিক রূপ প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে বিলাসীর অকৃত্রিম ও আত্মোৎসর্গকারী প্রেম, সেবা এবং মানবিক অনুভূতির এক অনন্য মহিমা চিত্রিত হয়েছে। এছাড়া এতে প্রকাশ পেয়েছে তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের নিষ্ঠুরতা, পরশ্রীকাতরতা, কুসংস্কার এবং মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তির প্রতি জ্ঞাতি-খুড়ার সীমাহীন লোভ। একই সাথে লেখক ন্যাড়ার জবানিতে সমাজের ভণ্ড সাধুতা ও অন্তঃসারশূন্য অনুশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন। শেষে স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাসীর আত্মাহুতির ঘটনা ভালোবাসার গভীরতা ও ট্র্যাজেডিকে রূপায়িত করেছে।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল গল্পের একটি অনুষঙ্গ অর্থাৎ 'জাতভেদের অসারতা' প্রতিফলিত হলেও প্রেম, মানবিকতা, সামাজিক শঠতা এবং বিলাসীর আত্মত্যাগের মতো ব্যাপক ভাবগুলো অনুপস্থিত। তাই উদ্দীপকটি গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে সমর্থ হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও