অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের তথ্য থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কি?
- খ)(2)
কিভাবে অর্থের যোগান মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে - ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপক থেকে ভোক্তার দাম সূচক নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
স্বল্প আয়ের মানুষের উপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে।
অর্থনীতিতে প্রচলিত দ্রব্য ও সেবার পরিমাণের তুলনায় অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে জনগণের হাতে নগদ অর্থ বেড়ে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা বা ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন বা যোগান চাহিদার অনুপাতে বৃদ্ধি না পেলে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে দ্রব্যের মূল্যস্তর বৃদ্ধি পায়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। ফিশারের সমীকরণ (MV = PT) অনুযায়ী অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে অর্থের পরিমাণ (M) বাড়লে দামস্তর (P) সমানুপাতিক হারে বাড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক থেকে ভোক্তার দাম সূচক (CPI) নির্ণয় করা হলো:
এখানে ভিত্তি বছর ২০২০ () এবং চলতি বছর ২০২১ () নির্দেশ করে। দ্রব্যের নির্দিষ্ট পরিমাণকে ভিত্তি বছরের পরিমাণ () হিসেবে বিবেচনা করা হলো।
১. ভিত্তি বছরে মোট ব্যয় ():
- দ্রব্য :
- দ্রব্য :
- দ্রব্য :
- দ্রব্য :
মোট ভিত্তি বছরের ব্যয়, টাকা।
২. চলতি বছরে ভিত্তি বছরের নির্দিষ্ট পরিমাণের জন্য মোট ব্যয় ():
- দ্রব্য :
- দ্রব্য :
- দ্রব্য :
- দ্রব্য :
মোট চলতি বছরের ব্যয়, টাকা।
ভোক্তার দাম সূচক () নির্ণয়ের সূত্র:
অতএব, নির্ণীত ভোক্তার দাম সূচক হলো ১২২.৫৫।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজে আয়ের পুনর্বণ্টন ঘটে এবং স্বল্প আয়ের মানুষের উপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রকৃত আয় হ্রাস: স্বল্প আয়ের মানুষ সাধারণত নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। মুদ্রাস্ফীতির কারণে যখন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, তখন তাদের নামমাত্র আয় একই থাকলেও প্রকৃত আয় (বা ক্রয়ক্ষমতা) হ্রাস পায়। ফলে পূর্বের পরিমাণ অর্থ দিয়ে তারা আর আগের মতো সামগ্রী কিনতে পারে না।
২. জীবনযাত্রার মান হ্রাস: প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে তাদের পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদায় কাটছাঁট করতে বাধ্য হতে হয়, যা সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৩. সঞ্চয় কমে যাওয়া ও ঋণের বোঝা: নিত্যদিনের খরচ মেটাতে গিয়ে তাদের সঞ্চয় সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনে তাদের উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়, যা তাদের দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে নিমজ্জিত করে।
৪. বৈষম্য বৃদ্ধি: মুদ্রাস্ফীতির ফলে ব্যবসায়ী ও উচ্চবিত্তরা লাভবান হলেও স্বল্প ও স্থির আয়ের শ্রমজীবী মানুষের আয়ের অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান আরও প্রকট রূপ ধারণ করে।
সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য একটি মারাত্মক অভিশাপস্বরূপ, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতা ধ্বংস করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও