ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মধ্য এশিয়ার প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে উসমান যে রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন দিনে দিনে তার উত্তরসূরিদের হাতে তা বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। এই বংশের সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল বিজয় করেন এবং সেখানে নিজের রাজধানী স্থাপন করেন ।
- ক)(1)
মিসর বিজয়ী ফাতেমীয় সেনাপতির নাম কী?
- খ)(2)
ফাতেমি কারা? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ওসমানের সাথে কোন ফাতেমীয় খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় মুহাম্মদের মতো ফাতেমীয় খলিফা আল- মুইজ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন'— মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিসর বিজয়ী ফাতেমীয় সেনাপতির নাম জওহর আস-সাক্বলি (বা জওহর আল-রুমি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.) ও জামাতা হযরত আলী (রা.)-এর বংশধরদের ফাতেমি বলা হয়। শিয়া মতাবলম্বী এই বংশের অনুসারীরা নিজেদের হযরত ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর দাবি করে উত্তর আফ্রিকায় এক শক্তিশালী খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা ইতিহাসে ফাতেমীয় খিলাফত নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উসমানের সাথে ফাতেমীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা ওবাইদুল্লাহ আল-মাহদীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, উসমান মধ্য এশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যা পরবর্তীতে এক বিশাল সাম্রাজ্যে রূপ নেয়। তেমনিভাবে ওবাইদুল্লাহ আল-মাহদী ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় আগলাবী বংশের পতন ঘটিয়ে ফাতেমীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সুতরাং, সাম্রাজ্য বা রাজবংশ প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে উদ্দীপকের উসমানের সাথে খলিফা ওবাইদুল্লাহ আল-মাহদীর কর্মকাণ্ডের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের মতো ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজও নতুন অঞ্চল বিজয় ও সেখানে নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন—উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ কনস্টান্টিনোপল বিজয় করে তাকে অটোমান সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। একইভাবে ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজের শাসনামলে তাঁর দক্ষ সেনাপতি জওহরের নেতৃত্বে ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে মিসর বিজিত হয়। মিসর বিজয়ের পর খলিফা আল-মুইজ উত্তর আফ্রিকা থেকে তাঁর রাজধানী কায়রোতে (আল-কাহিরা) স্থানান্তর করেন।
আল-মুইজ শুধু রাজ্য বিস্তারই করেননি, কায়রোকে একটি সমৃদ্ধশালী নগরী হিসেবে গড়ে তোলেন এবং এখানে ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই বিজয় ফাতেমীয় খিলাফতকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করে। অতএব, সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ এবং ঐতিহাসিক নগরীকে রাজধানী বানানোর গৌরব অর্জনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মুহাম্মদের সাথে আল-মুইজের কর্মকাণ্ডের চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে এবং এ কারণেই তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও