সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
"নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল। গাভি কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান কাষ্ঠ-দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান। স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত।
- ক)(1)
কবি জসিমউদ্দীন কলেজে অধ্যয়নকালে কোন কবিতা রচনা করে খ্যাতিলাভ করেন?
- খ)(2)
কবি নিরন্তর কী সাজান? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের কবির চেতনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির চেতনার সমান্তরাল।"-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি জসীমউদ্দীন কলেজে অধ্যয়নকালে (বিএ শ্রেণিতে পড়ার সময়) তাঁর বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি রচনা করে খ্যাতিলাভ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি নিরন্তর পরোপকার ও ভালোবাসার অর্ঘ্য দিয়ে শত্রু ও বিদ্বেষীর জন্য একটি সুন্দর ও কল্যাণময় পৃথিবী সাজাতে চান।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি তাঁর উদার মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন। যে মানুষটি কবির অনিষ্ট করেছে, তাঁর ঘর ভেঙেছে কিংবা বুকে আঘাত হেনেছে, কবি তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেন না। বরং তিনি সেই অপকারী মানুষের মঙ্গল কামনা করেন এবং তাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়ে আপন করে নেওয়ার জন্য ফুলের মালা ও স্নেহের বন্ধন নিরন্তর রচনা করে সাজিয়ে রাখেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার নিঃস্বার্থ পরোপকারিতা এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে জগতের কল্যাণ সাধন করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের শ্লোকটিতে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান যেমন নদী, গাছ, গাভি, কাঠ, স্বর্ণ এবং বাঁশির নিঃস্বার্থ পরসেবা করার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এরা সবাই নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অপরকে তৃপ্ত, শোভিত ও মোহিত করে।
'প্রতিদান' কবিতায়ও কবি জসীমউদ্দীন প্রতিশোধের বিপরীতে অহিংসা ও পরম আত্মত্যাগের মহৎ আদর্শ তুলে ধরেছেন। যিনি ক্ষতি করেন, কবি তাঁর মঙ্গল সাধনে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। উদ্দীপকে প্রকৃতির এই নিঃস্বার্থ দানশীলতার যে রূপ চিত্রিত হয়েছে, তা 'প্রতিদান' কবিতার স্বার্থহীন পরোপকার এবং উদার মানসিকতার প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের কবির চেতনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির চেতনার সমান্তরাল"—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে কবি প্রকৃতির বিভিন্ন সত্তার দৃষ্টান্ত দিয়ে নিঃস্বার্থ বিলিয়ে দেওয়া ও পরকল্যাণব্রতের মহত্ত্ব তুলে ধরেছেন। নদী নিজে জল পান না করে জগৎকে তৃষ্ণা মেটায়, গাছ নিজের ফল নিজে না খেয়ে অপরকে দেয়, কাঠ নিজেকে পুড়িয়ে অন্যের অন্ন জোগায়। অর্থাৎ প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান নিজের অস্তিত্বকে বিলিয়ে দিয়ে জগতের কল্যাণ সাধন করে।
অনুরূপভাবে, 'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীনও নিজের অহং ও স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে চরম পরোপকার এবং মানবপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। কবির ক্ষতিসাধনকারী বা বৈরী ভাবাপন্ন মানুষের প্রতিও তিনি বিন্দুমাত্র হিংসা পোষণ করেন না; বরং যে তাঁর ঘর ভেঙেছে, তিনি তার জন্য ঘর বাঁধেন, যে তাঁকে বিষ দিয়েছে, তিনি তাকে সুধা বা ভালোবাসা উপহার দেন। প্রকৃতির মতোই কবি নিজেকে নিঃশেষ করে অপরকে ভালোবাসা ও কল্যাণে আপ্লুত করতে চান।
সুতরাং উদ্দীপকের প্রাকৃতিক উপাদানের নিঃস্বার্থ আত্মদান এবং 'প্রতিদান' কবিতার কবির নিঃশর্ত ক্ষমা, পরোপকার ও ভালোবাসার দৃষ্টিভঙ্গি একই সূত্রে গাঁথা। উভয়ের মূল সুর হলো স্বার্থহীনভাবে অপরের কল্যাণ করা। অতএব, উভয়ের চেতনা পরস্পর সমান্তরাল—মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও