পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ক' ও 'খ' এসএসসি পাশ করার পর একই কলেজে একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে। তাদের দুই জনের দুটি আলাদা বিষয় আছে। মজার ব্যাপার হলো বিষয় দুটি আলাদা হলেও একটি অপরটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। 'ক' এর বিষয়টি নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, আচার-আচরণ, আইন, স্বাধীনতানিয়ে আলোচনা করে।
- ক)(1)
Civitas' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
পৌরনীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'ক' এর বিষয়টি তোমার পঠিত কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত? এর পরিধি লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির ক্রমবিকাশ বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Civitas' (সিভিটাস) শব্দের অর্থ হলো নগররাষ্ট্র (City-State)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।
উৎপত্তিগত অর্থে ল্যাটিন শব্দ 'Civis' (নাগরিক) এবং 'Civitas' (নগররাষ্ট্র) থেকে 'Civics' বা পৌরনীতি শব্দের উৎপত্তি। সাধারণ অর্থে, জ্ঞানের যে শাখা নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, আচার-আচরণ, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ নিয়ে আলোচনা করে, তাকে পৌরনীতি বলে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ই. এম. হোয়াইটের মতে, "পৌরনীতি হলো জ্ঞানের সেই মূল্যবান শাখা যা নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও মানবতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।"
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' এর বিষয়টি আমার পঠিত 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। কারণ উদ্দীপকে বলা হয়েছে 'ক' এর বিষয়টি নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, আচার-আচরণ, আইন, স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যা পৌরনীতি ও সুশাসনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। নিচে এর মূল পরিধি তুলে ধরা হলো:
১. নাগরিকের কার্যাবলি ও দৃষ্টিভঙ্গি: পৌরনীতি নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, কার্যাবলি, সচেতনতা এবং আচার-আচরণ পর্যালোচনা করে।
২. সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনা: সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান এবং এদের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে এটি আলোচনা করে।
৩. আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য: আইনের উৎস, প্রয়োগ, স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সাম্যের সাথে এর সম্পর্ক পৌরনীতির পরিধিভুক্ত।
৪. নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ: নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের অতীতের রূপ, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোকপাত করে।
৫. স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান: ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতিসংঘ পর্যন্ত সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এর অন্তর্ভুক্ত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো 'পৌরনীতি ও সুশাসন'। প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত মানবসভ্যতার পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বিষয়ের তাৎপর্যপূর্ণ ক্রমবিকাশ ঘটেছে।
১. প্রাচীন যুগ: পৌরনীতির উৎপত্তি ঘটে প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স ও স্পার্টার মতো নগররাষ্ট্রে (City-State)। তখন নগররাষ্ট্রের সকল সদস্য বা শাসনকাজে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের 'নাগরিক' বলা হতো এবং কেবল তাদের জীবন ও আচার-আচরণ নিয়ে পৌরনীতি চর্চা শুরু হয়। তবে সেসময় নারী, দাস ও বিদেশিদের নাগরিক মর্যাদা ছিল না।
২. মধ্যযুগ: মধ্যযুগে সামন্ততন্ত্র ও ধর্মের প্রভাব বিস্তার লাভ করায় রাষ্ট্রচিন্তা সীমিত রূপ পায়। নগররাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটে এবং বৃহত্তর সাম্রাজ্য গড়ে ওঠায় নাগরিকতার ধারণা স্তিমিত হয়ে পড়ে।
৩. আধুনিক যুগ: আধুনিক কালে জাতীয় রাষ্ট্রের (Nation-State) উদ্ভব ঘটে। রাষ্ট্র বিশাল ভূখণ্ড ও কোটি কোটি জনসংখ্যা নিয়ে গঠিত হওয়ায় নাগরিকতার ধারণাও ব্যাপক হয়ে ওঠে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল অধিবাসী নাগরিক অধিকার লাভ করে। এর ফলে পৌরনীতি নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ অধ্যয়নের বিষয়ে পরিণত হয়।
৪. সমকালীন বিকাশ (সুশাসন): বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিশ্বব্যাংক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের উদ্যোগে শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে 'সুশাসন' (Good Governance) ধারণাটির সংযোজন ঘটে। ফলে পৌরনীতির পরিধি আরও সমৃদ্ধ হয়ে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।সুতরাং, প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রের ধারণা থেকে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পৌরনীতি ও সুশাসন একটি গতিশীল ও বিকাশমান মানবিক বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও