পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জামালের বয়স ৯ বছর। সে রফিক মিয়ার চায়ের দোকানে কাজ করে। রফিক মিয়া তাকে স্নেহ করেন। দোকানে চা খেতে আসা লোকদের গল্প শুনে জামালের লেখাপড়া করার ইচ্ছা জাগে। সে ভাবে, শিক্ষিত হলে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। একদিন সে রফিক মিয়াকে তার ইচ্ছার কথা বলে। রফিক মিয়া তাকে নৈশ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয়।
- ক)(1)
অধিকার প্রধানত কত প্রকার?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জামালের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলে সমাজে কোন ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত। হবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রফিক মিয়ার ভূমিকায় কোন ধরনের মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার: নৈতিক অধিকার ও আইনগত অধিকার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক অধিকার বলতে এমন সব সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায় যা একজন নাগরিককে জীবিকা নির্বাহ করতে এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। যেমন- কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, বিশ্রাম ও অবসরের অধিকার ইত্যাদি। অর্থনৈতিক অধিকার নাগরিকের সুন্দর ও সচ্ছল জীবনযাপনের ভিত্তি রচনা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জামালের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলে সমাজে 'শিক্ষার অধিকার' তথা মৌলিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রধান হাতিয়ার। এটি প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম মৌলিক সামাজিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হলে ব্যক্তি তার সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে এবং উন্নত জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ৯ বছর বয়সী জামাল দারিদ্র্যের কারণে রফিক মিয়ার চায়ের দোকানে কাজ করে। কিন্তু দোকানে আসা মানুষদের কথা শুনে তার মধ্যে লেখাপড়া করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। রফিক মিয়া তাকে নৈশ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। এর ফলে জামালের শিক্ষা অর্জনের পথ উন্মুক্ত হয়। সুতরাং, জামালের এই লেখাপড়ার ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলে সমাজে শিশুর শিক্ষার অধিকার ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বিকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রফিক মিয়ার ভূমিকায় সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের সেই সমস্ত মানসিক উপলব্ধি ও সদিচ্ছা, যা অন্যের প্রতি মমতা, সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ এবং সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের উন্নত জীবনের পথ তৈরি করে দেওয়া সামাজিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকে জামাল একটি চায়ের দোকানে সাধারণ কর্মচারীর কাজ করত। তার লেখাপড়া করার আগ্রহ দেখে দোকানমালিক রফিক মিয়া উদাসীন থাকেননি বা কেবল তার বাণিজ্যিক লাভের কথা ভাবেননি। বরং তিনি জামালের প্রতি গভীর মমতা ও মানবিক দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে তাকে নৈশ বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। এই সিদ্ধান্ত জামালের মতো সুবিধাবঞ্চিত একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সুন্দর করার ক্ষেত্রে সহায়ক।
রফিক মিয়ার এই মহানুভবতা, সহমর্মিতা ও দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে যে তার মধ্যে উচ্চমাত্রার মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও