সাহিত্য পাঠ • অপরিচিতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মেয়ের বিয়ে নিয়ে বাবার উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। সমাজ এখনও কালো কিংবা শ্যামলা মেয়েদের পছন্দ করতে চায় না। হাশেম সাহেবের মেয়ে তাহমিনার গায়ের রং কালো হওয়ায় এ নিয়ে পরপর চার বার বিয়ে ভেঙে যায়। তাই তাহমিনা বিয়ের পিঁড়িতে বসার চিন্তা পরিহার করে নারী শিক্ষার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

  1. ক)

    "মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।”—উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    “আমাকে একটি কথা বলাও তিনি আবশ্যক বোধ করিলেন না।" উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তাহমিনার বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রে গায়ের রঙের প্রসঙ্গটি 'অপরিচিতা' গল্পের কোন বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “নারীর নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণের অনুঘটক।"-মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।"—উক্তিটি অনুপমের পিসতুতো ভাই বিনুদাদার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে বিয়ের আসর ভেঙে যাওয়ার মুহূর্তে অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা ও আত্মমর্যাদাহীন অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।

    শম্ভুনাথ সেন যখন যৌতুকের গয়না যাচাইয়ের অপমানজনক আচরণের প্রতিবাদে বরপক্ষকে ভোজ খাইয়ে বিদায় করে দেন, তখন অনুপম বিয়ের আসরে নীরবে বসে ছিল। শম্ভুনাথ সেন কন্যা কল্যাণীর বিয়ে অনুপমের মতো মেরুদণ্ডহীন পাত্রের সাথে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং অনুপমকে কোনো গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনই মনে করেননি। অনুপম যে একজন অভিভাবকনির্ভর এবং নিজস্ব মতামতহীন পুরুষ, শম্ভুনাথের আচরণে সেই উপেক্ষাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তাহমিনার বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রে গায়ের রঙের প্রসঙ্গটি 'অপরিচিতা' গল্পের তৎকালীন সমাজের পাত্রপক্ষীয় সংকীর্ণ মানসিকতা ও নারী অবমূল্যায়নের বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়।

    'অপরিচিতা' গল্পে দেখা যায়, বিয়ের বাজারে কন্যাপক্ষের ওপর পাত্রপক্ষের শোষণ ও পণপ্রথা ছিল চরম। সেখানে নারীর নিজস্ব গুণ বা ব্যক্তিত্বের চেয়ে দেনাপাওনা ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিচারই প্রধান হয়ে দাঁড়াত। অনুপমের জন্য পাত্রী বাছাই করতে গিয়ে বিনুদাদা কল্যাণীকে সরেজমিনে দেখে 'খাঁটি সোনা' বলে প্রশংসা করেছিলেন, কারণ তৎকালীন সমাজ নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্য ও অর্থনৈতিক সমর্পণকে পণ্য হিসেবে মূল্যায়ন করত।

    উদ্দীপকে তাহমিনা কালো হওয়ার কারণে বারবার তার বিয়ে ভেঙে যায়, যা সমাজের বর্ণবাদী ও বাহ্যিক সৌন্দর্যকেন্দ্রিক কুসংস্কারকে নির্দেশ করে। 'অপরিচিতা' গল্পেও বিয়ের ক্ষেত্রে কন্যার মূল্যায়ন ব্যক্তিত্ব দিয়ে নয়, বরং পুরুষের সন্তুষ্টি ও ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মাপকাঠিতে হতো। উদ্দীপকের এ ঘটনাই গল্পের সেই সমাজব্যবস্থার অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “নারীর নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণের অনুঘটক।”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    'অপরিচিতা' গল্পে দেখা যায়, বিয়ের আসরে অনুপমের মামা কর্তৃক কন্যার গহনা পরখ করার চরম অবমাননাকর ঘটনার পর কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেন। কল্যাণী সেই অপমানজনক সমাজব্যবস্থাকে মেনে না নিয়ে পরবর্তীকালে আর বিয়ের পিঁড়িতে না বসার পণ করে এবং নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে নিজেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত করে। সামাজিক অবমাননাই কল্যাণীর সুপ্ত আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন ব্যক্তিসত্তাকে জাগ্রত করে।

    উদ্দীপকের তাহমিনাও সমাজে প্রচলিত বর্ণবাদী ধ্যানধারণা এবং বাহ্যিক রূপের প্রতি অন্ধ মোহের কারণে চার চার বার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মতো সামাজিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। তবে সে ভেঙে না পড়ে বিয়ের চিন্তা ত্যাগ করে নারীশিক্ষার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেয়।

    কল্যাণী ও তাহমিনা উভয়ই তাদের জীবনের সামাজিক সংকীর্ণতা ও অবমূল্যায়নকে দুর্বলতা না বানিয়ে শক্তিতে পরিণত করেছে। তারা গতানুগতিক দাসত্বমূলক পারিবারিক জীবনের বাইরে এসে নারীজাগরণ ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেছে। অতএব, এটি স্পষ্ট যে সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় পিষ্ট না হয়ে বরং সেই প্রতিকূলতাই তাদের আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিসত্তার জাগরণের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন