অর্থনীতি ১ম পত্র • মূলধন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. A ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। কাজের মজুরির টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় করেন। তিনি ২০২৩ সালে ২৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০২৪ সালে তাঁর মোট মূলধন দাঁড়ায় ৩৩ লক্ষ টাকা। উক্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় ৩ লক্ষ টাকা।
- ক)(1)
নিমজ্জিত মূলধন কী?
- খ)(2)
স্থায়ী মূলধন ও চলতি মূলধনের পার্থক্য দেখাও।
- গ)(3)
মি. 'A' এর নিট মূলধন গঠনের হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত উপায় ব্যতীত আর কী কী উপায়ে মূলধন গঠন করা যায়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে মূলধন কেবল একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা একবার মাত্র কোনো নির্দিষ্ট উৎপাদনে ব্যবহার করা যায় এবং বিকল্প কোনো ব্যবহারে স্থানান্তর করা যায় না, তাকে নিমজ্জিত মূলধন (Sunk Capital) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থায়ী মূলধন ও চলতি মূলধনের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ব্যবহারের স্থায়িত্ব: স্থায়ী মূলধন উৎপাদনে দীর্ঘদিন ধরে বারবার ব্যবহার করা যায় (যেমন: জমি, কারখানা ভবন, ভারী যন্ত্রপাতি); কিন্তু চলতি মূলধন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একবার ব্যবহারের ফলেই শেষ বা রূপান্তরিত হয়ে যায় (যেমন: কাঁচামাল, জ্বালানি)।
২. রূপান্তরযোগ্যতা: স্থায়ী মূলধনের অর্থ দীর্ঘমেয়াদে আবদ্ধ থাকে এবং সহজে তরল সম্পদে রূপান্তর করা যায় না; অপরদিকে চলতি মূলধন খুব দ্রুত চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তরিত হয়ে বিক্রয়ের মাধ্যমে পুনরায় অর্থে পরিণত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে,
২০২৩ সালে প্রারম্ভিক মূলধন (K₀) = ২৫ লক্ষ টাকা
২০২৪ সালে সমাপনী মোট মূলধন (K₁) = ৩৩ লক্ষ টাকা
মোট মূলধন গঠন (Gross Capital Formation, GCF) = ৩৩ লক্ষ - ২৫ লক্ষ = ৮ লক্ষ টাকা
উক্ত সময়ে ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় বা অবচয় খরচ (Depreciation/Replacement Cost, D) = ৩ লক্ষ টাকাঅতএব, নিট মূলধন গঠন (Net Capital Formation, NCF) = মোট মূলধন গঠন - অবচয় খরচ
= ৮ লক্ষ টাকা - ৩ লক্ষ টাকা = ৫ লক্ষ টাকা।নিট মূলধন গঠনের হার (প্রারম্ভিক মূলধনের সাপেক্ষে):
= (নিট মূলধন গঠন / প্রারম্ভিক মূলধন) × ১০০
= (৫ লক্ষ / ২৫ লক্ষ) × ১০০
= ২০%সুতরাং, মি. 'A' এর নিট মূলধন গঠনের হার ২০%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. A ব্যক্তিগত আয় থেকে সঞ্চয় করে এবং পরবর্তীতে তা ব্যবসায় পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধন গঠন করেছেন। তবে একটি দেশের অর্থনীতিতে কেবল ব্যক্তিগত সঞ্চয় ছাড়াও আরও বহু উপায়ে মূলধন গঠন সম্ভব। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়: বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অলস সঞ্চয় সংগ্রহ করে বৃহৎ মূলধন তহবিল গড়ে তোলে।
২. ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত মুনাফা: যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলো তাদের অর্জিত মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও নতুন প্রকল্পের জন্য সঞ্চিত তহবিল হিসেবে রেখে দেয়, যা সরাসরি মূলধন গঠনে সাহায্য করে।
৩. সরকারি সঞ্চয় ও রাজস্ব উদ্বৃত্ত: সরকার জনগণের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর ধার্য করে এবং অনুন্নয়ন ব্যয় সংকোচন করে যে উদ্বৃত্ত রাজস্ব পায়, তা দিয়ে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলে।
৪. বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান: উন্নয়নশীল দেশগুলো অভ্যন্তরীণ সম্পদের ঘাটতি পূরণে বিশ্বব্যাংক, এডিবি বা বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান এনে অবকাঠামো খাতে মূলধন সৃষ্টি করে।
৫. প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI): বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সরাসরি দেশে অর্থ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিয়োগ করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
৬. ঘাটতি অর্থায়ন: সাময়িক মূলধনের অভাব পূরণে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বা নতুন মুদ্রা ছাপিয়ে উৎপাদনশীল উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করে মূলধন বৃদ্ধি করতে পারে।
সুতরাং, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আর্থিক উৎসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে একটি দেশের সামগ্রিক মূলধন গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও