কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
মধু কী?
- খ)(2)
মৌচাকে রাণী মৌমাছি কেন গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্রে প্রদর্শিত 'C' চিহ্নিত পর্যায়টি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্রের প্রদর্শিত পোকাটি চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মধু হলো মৌমাছি কর্তৃক বিভিন্ন ফুলের পুষ্পরস বা নেকটার সংগ্রহ ও আংশিক হজম করে মৌচাকের কুঠুরিতে জমা রাখা এক প্রকার মিষ্টি ও ঘন সান্দ্র তরল পদার্থ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি মৌচাকে রাণী মৌমাছি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সে মৌচাকের একমাত্র উর্বর বা প্রজননক্ষম স্ত্রী মৌমাছি। রাণী মৌমাছির মূল কাজ হলো ডিম পেড়ে মৌমাছির বংশবৃদ্ধি করা ও কলোনির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। সে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০টি ডিম পাড়তে পারে। এছাড়া রাণী মৌমাছির দেহ থেকে নিঃসৃত বিশেষ ফেরোমোন গন্ধের কারণে কলোনির সকল শ্রমিক ও পুরুষ মৌমাছি একত্রিত এবং সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়। তাই রাণী মৌমাছি ছাড়া পুরো মৌচাকের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে প্রদর্শিত 'C' চিহ্নিত পর্যায়টি হলো রেশম পোকার গুটি বা পিউপা (C茧/Cocoon) পর্যায়।
রেশম মথের জীবনচক্রে লার্ভা বা পলু (B2) বড় হয়ে শেষ বয়সে (পঞ্চম দশায়) খাওয়া বন্ধ করে দেয়। তখন এটি তার লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এক প্রকার প্রোটিনজাতীয় তরল (ফাইব্রয়েন ও সেরিসিন) মুখ দিয়ে বের করে। এই তরল বাতাসের সংস্পর্শে এসে শক্ত সুতায় পরিণত হয়। পলু মাথা নেড়ে নেড়ে নিজের চারপাশে এই সূক্ষ্ম সুতা জড়িয়ে ডিম্বাকার একটি খোলস বা আবরণ তৈরি করে, যাকে কোকুন বা গুটি বলা হয়। গুটি তৈরির প্রক্রিয়া সাধারণত ৩-৪ দিন স্থায়ী হয়। গুটির ভেতরে পলুটি নিশ্চল হয়ে যায় এবং এটি পিউপা বা মূককীট দশায় রূপান্তরিত হয়। এই গুটি থেকেই রেশমি সুতা প্রস্তুত করা হয়, যা বস্ত্রশিল্পের অন্যতম মূল্যবান কাঁচামাল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত পোকাটি হলো রেশম পোকা (Silkworm/Bombyx mori)। রেশম চাষের (Sericulture) অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রেশম সুতা ও বস্ত্র উৎপাদন: রেশম পোকার গুটি (C) থেকে বিশ্বের অন্যতম অভিজাত ও মূল্যবান রেশমি সুতা উৎপাদিত হয়। এ সুতা দিয়ে মসলিন, সিল্ক শাড়ি ও নানা ধরনের উচ্চমানের পোশাক তৈরি হয়।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: রেশমি সুতা ও সিল্কের তৈরি বস্ত্র আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন। উন্নত মানের রেশম পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তুঁত গাছ চাষ, পলু পালন, গুটি থেকে সুতা আহরণ, বুনন ও বিপণন কাজে প্রচুর জনশক্তির প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য এটি কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করে।
৪. কৃষিভিত্তিক কুটির শিল্পের বিকাশ: এটি একটি পরিবেশবান্ধব কুটির শিল্প। স্বল্প পুঁজিতে প্রান্তিক চাষিরা নিজেদের বাড়িতে রেশম চাষ করে বাড়তি আয় নিশ্চিত করতে পারে।
৫. উপজাত পণ্যের ব্যবহার: রেশম গুটির ভেতর থাকা মৃত পিউপা থেকে তেল, মাছ ও হাঁস-মুরগির খাদ্য সার তৈরি হয়। তুঁত গাছের ডালপালা জ্বালানি এবং পাতা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।সুতরাং, জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে রেশম চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও