‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

১২ সালমান সাহেব প্রচুর ভূ-সম্পত্তির মালিক। গ্রামের বর্গাচাষীরা তার জমি চাষ করে। কিন্তু জমির যত্ন না নেওয়ায় ফসল কম হয়। প্রত্যেক বছর বর্গাদার পরিবর্তন করেও তিনি সুফল পেলেন না। তাই তিনি বার্ষিক নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসলের বিনিময়ে স্থায়ীভাবে বর্গা দেওয়ার পরিকল্পনা 'করলেন। এতে তিনি নানাভাবে লাভবান হন।

  1. ক)

    কাকে ভারতের রেলপথের জনক বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    স্বত্ববিলোপ নীতি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সালমান সাহেবের পরিকল্পনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের পরিকল্পনার সাদৃশ্য রয়েছে? উক্ত পরিকল্পনার উদ্দেশ্যগুলো আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উক্ত পরিকল্পনায় দোষ-গুণের সংমিশ্রণ ছিল'- পঠিত বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড ডালহৌসিকে ভারতের রেলপথের জনক বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বত্ববিলোপ নীতি (Doctrine of Lapse) হলো লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক প্রবর্তিত এমন একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি, যার মাধ্যমে কোনো ভারতীয় দেশীয় রাজ্যের শাসক অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হতো। এই নীতি অনুযায়ী কোনো হিন্দু শাসক দত্তক পুত্র গ্রহণ করতে পারতেন না এবং দত্তক পুত্রের উত্তরাধিকারের দাবি অগ্রাহ্য করে সেই রাজ্য সরাসরি ব্রিটিশদের অধীনে নিয়ে আসা হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সালমান সাহেবের পরিকল্পনার সাথে পাঠ্যবইয়ের লর্ড কর্নওয়ালিসের 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' (Permanent Settlement)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো ছিল:
    ১. কোম্পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত বাৎসরিক রাজস্ব আয় নিশ্চিত করা।
    ২. জমিদারি স্থায়ী করার মাধ্যমে জমিদারদের ভূমির উন্নয়নে উৎসাহিত করা এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
    ৩. একটি বিশ্বস্ত ও অনুগত জমিদার শ্রেণি গড়ে তোলা, যারা ব্রিটিশ শাসন টিকিয়ে রাখতে কোম্পানিকে সহায়তা করবে।
    ৪. রাজস্ব আদায়ের প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিশ্চয়তা দূর করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড কর্নওয়ালিস কর্তৃক প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল দোষ এবং গুণের এক সংমিশ্রণ—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    গুণসমূহ:
    ১. নির্দিষ্ট রাজস্ব: এই ব্যবস্থার ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাৎসরিক আয়ের একটি নির্দিষ্টতা আসে, যার ফলে তাদের বাজেট প্রণয়ন সহজ হয়।
    ২. ভূমিস্বত্বের স্থায়িত্ব: জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকানা পাওয়ায় অনেকে পতিত জমি আবাদ এবং কৃষির উন্নয়নে উদ্যোগী হন।
    ৩. অনুগত শ্রেণির সৃষ্টি: এর মাধ্যমে ব্রিটিশরা এমন একটি সুবিধাভোগী জমিদার শ্রেণি তৈরি করতে পেরেছিল, যারা ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছিল।

    দোষসমূহ:
    ১. কৃষকদের ওপর শোষণ: এ ব্যবস্থায় কৃষকদের কোনো স্বত্ব বা অধিকার ছিল না। জমিদাররা ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করত এবং প্রজাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত।
    ২. সূর্যাস্ত আইন: নির্ধারিত দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমিদারদের জমি নিলামে উঠত, ফলে বহু প্রাচীন জমিদার ধ্বংস হয়ে যায়।
    ৩. অনুপস্থিত জমিদার শ্রেণি: রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব নায়েব-গোমস্তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে জমিদাররা শহরে বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করে, যা কৃষির উন্নয়নকে ব্যাহত করে।

    অতএব, এই ব্যবস্থা ব্রিটিশ সরকার ও নতুন জমিদারদের লাভবান করলেও বাংলার মূল চালিকাশক্তি সাধারণ কৃষকদের চরম দুর্দশার মুখে ঠেলে দেয়। তাই বলা যায়, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে দোষ ও গুণের সংমিশ্রণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন