পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
‘ক' রাষ্ট্রের একজন নেতা ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রটিকে বিভক্ত করে নতুন একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঐতিহাসিক একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে একটিমাত্র নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক)(1)
'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি কী?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার কারণ বর্ণনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যসূচির যে ঐতিহাসিক প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে তার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। ৩
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি হলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের এমন এক কূটকৌশল, যার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে শাসন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করা হতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান কারণ ছিল ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ করা। তৎকালীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস মূলত হিন্দুপ্রধান রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় মুসলিমদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছিল না। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুসলমানদের নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়, সরকারি চাকরিতে অধিকার নিশ্চিতকরণ, পৃথক নির্বাচনের দাবি আদায় এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের লক্ষ্যে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোরে উত্থাপিত 'লাহোর প্রস্তাব'। শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত এই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. ভৌগোলিক সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে এমনভাবে সীমানা পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো (যেমন ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চল) একত্রিত হয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠন করতে পারে।
২. এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
৩. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার সংরক্ষণের জন্য সংবিধানে কার্যকর ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই মূলত স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল— উক্তিটি যথার্থ।
লাহোর প্রস্তাবে মূল শব্দ ছিল 'Independent States' বা 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ'। অর্থাৎ ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় বাংলা ও আসামকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল পূর্ব বাংলাকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা।
যদিও পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে দিল্লির কনভেনশনে জিন্না ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ সুকৌশলে টাইপিং ভুলের অজুহাত দিয়ে 'States'-এর স্থলে 'State' করে একটিমাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের রূপরেখা বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু পূর্ব বাংলার জনগণ লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনায় বিশ্বাসী ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়। বাঙালিরা বুঝতে পারে লাহোর প্রস্তাবের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। ফলে সেই লাহোর প্রস্তাবের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার ধারণাই পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দেয়। অতএব, বলা যায় স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই নিহিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও