ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
শামীম সাহেব একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। অফিসের কাজে নিজ সরকারি গাড়ি ব্যবহার করলেও পারিবারিক প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না। তিনি মনে করেন, এ ব্যাপারে কেউ কিছু না বললেও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার, আত্মসাৎ ও সম্পদ বিনষ্ট করা জঘন্য অপরাধ। অপরপক্ষে আলমগীর সাহেব অন্যায়কে কখনও প্রশ্রয় দেন না। নিয়মনীতির বাইরে কোনো কাজ করা পছন্দ করেন না। তিনিজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে- কথাবার্তা, কাজ-কর্ম, আচার-আচরণ, লেনদেন, ভোগ-বিলাসে ন্যায়-নীতি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
'উখউয়াত' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"তোমার ধন-সম্পদের মধ্যে গরিব ও বঞ্চিতদের অধিকার আছে"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত শামীম সাহেবের কর্মকাণ্ড ও তার মনোভাবে কী ফুটে উঠেছে? তা চিহ্নিতপূর্বক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত আলমগীর সাহেবের কর্মে যা ফুটে উঠেছে তা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? এর সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'উখউয়াত' শব্দের অর্থ ভ্রাতৃত্ব বা ভ্রাতৃভাব।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পবিত্র কুরআনের সূরা যারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে— "তোমার ধন-সম্পদের মধ্যে গরিব ও বঞ্চিতদের অধিকার আছে।"
ইসলামের দৃষ্টিতে সকল সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ। তিনি মানুষকে সাময়িকভাবে সম্পদের জিম্মাদার করেছেন। ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদে সমাজের অসহায়, অভাবী, এতিম ও বঞ্চিত মানুষদের একটি নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত রয়েছে, যা জাকাত ও সদকার মাধ্যমে প্রদান করতে হয়। এটি ধনীদের কোনো দয়া বা অনুকম্পা নয়, বরং গরিবদের পাওনা অধিকার। এই হক আদায় না করলে সম্পদ অপবিত্র থেকে যায় এবং জবাবদিহি করতে হবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত শামীম সাহেবের কর্মকাণ্ড ও মনোভাবে আমানতদারিতা এবং জাতীয় সম্পদের হেফাজতের গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
ইসলামে রাষ্ট্রীয় সম্পদকে জনগণের 'আমানত' হিসেবে গণ্য করা হয়। পদমর্যাদা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করা ইসলামে খিয়ানত হিসেবে গণ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে আমানত রক্ষা করে না তার ঈমান নেই।
শামীম সাহেব একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও অফিসের কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করলেও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কাজে তা ব্যবহার করেন না। তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও আত্মসাৎকে জঘন্য অপরাধ মনে করেন। তাঁর এই চিন্তা ও কাজ ইসলামের কঠোর আমানতদারিতা, সততা ও জবাবদিহিতার চমৎকার বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত আলমগীর সাহেবের কর্মে যা ফুটে উঠেছে তা আমার পাঠ্যবইয়ের ‘আদল’ বা ‘ন্যায়পরায়ণতা’ ও ‘ইনসাফ’-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আলমগীর সাহেব অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেন না এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে— কথা, কাজ, লেনদেন ও ভোগ-বিলাসে ন্যায়নীতি বজায় রাখেন। ইসলামে এই নীতিকেই আদল বা ইনসাফ বলা হয়। মহান আল্লাহ কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন" (সূরা আন-নাহল: ৯০)।
সামাজিক জীবনে এ ধরনের ন্যায়পরায়ণতার সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে:
১. শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা: সমাজে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধ প্রবণতা কমে যায় এবং সমাজে সার্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসে।
২. বৈষম্য ও শোষণের অবসান: ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলে সমান অধিকার লাভ করে, ফলে জুলুম ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে ওঠে।
৩. পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি: ব্যক্তিগত ও সামাজিক লেনদেনে সততা ও সুবিচার কায়েম থাকলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়।
৪. দুর্নীতি প্রতিরোধ: নিয়মনীতি ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে সমূলে দূর করে।সুতরাং, আলমগীর সাহেবের অনুসৃত ন্যায়পরায়ণতার গুণটি একটি আদর্শ ও শান্তিময় সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও