পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
আফ্রিকা মহাদেশের একটি বৃহৎ রাষ্ট্র ‘ক’। রাষ্ট্রটি দু'টি অংশে বিভক্ত। উত্তর অংশে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক দল ঐ অঞ্চলের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দক্ষিণ অংশে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলটি দক্ষিণ অংশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। এ কারণে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে দল দু'টি অঞ্চলভিত্তিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ।
- ক)(1)
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী কতজন ছিল?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে পাকিস্তানের কোন নির্বাচনের সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়? উক্ত নির্বাচনের ফলাফল ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্বাচন পাকিস্তানে জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে কী সমস্যা তৈরি করেছিল? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামী ছিলেন ৩৫ জন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ঐক্যজোটকে বোঝায়। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল— এই প্রধান চারটি দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাষ্ট্রের দুটি অংশে গড়ে ওঠা দুটি দল নিজ নিজ অঞ্চলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনেও ঠিক একই ধরনের আঞ্চলিক মেরুকরণ ঘটেছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে মূলত পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) বিপুল বিজয় লাভ করে। জাতীয় পরিষদে মোট ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের ১৩৮টি আসনের মধ্যে পিপিপি ৮১টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়। নির্বাচনের এই ফলাফল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিভাজনকে সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট করে তোলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্বাচনটি হলো পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচন পাকিস্তানের তথাকথিত জাতীয় সংহতির কৃত্রিম ভিত্তিকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে চরম সংকট তৈরি করেছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচন স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ধর্মীয় ভিত্তিতে তৈরি পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুই অংশের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কোনো অভিন্ন জাতীয় সংহতি গড়ে ওঠেনি। আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের (সংরক্ষিতসহ) মধ্যে ১৬৭টিতে জয়ী হলেও পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো আসন পায়নি; আবার পিপিপি পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পূর্ব পাকিস্তানে কোনো আসন পায়নি। ফলে পাকিস্তানের রাজনীতি পরিষ্কারভাবে দুটি আঞ্চলিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
জাতীয় সংহতির এই চরম সংকটের কারণে পশ্চিম পাকিস্তানি কায়েমী শাসক ও সামরিক চক্র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ভুট্টোর ক্ষমতার লোভ এবং ইয়াহিয়া খানের সামরিক ষড়যন্ত্রের ফলে উভয় অংশের মধ্যে মানসিক বিচ্ছিন্নতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু হলে এই বিভক্তি পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
অতএব, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফল পাকিস্তানের জাতীয় সংহতির কৃত্রিম মুখোশ উন্মোচন করে রাষ্ট্রটির অখণ্ডতার চূড়ান্ত অবসান ঘটায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও