ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তার চরিত্রে দোষ ও গুণের সমাবেশ ছিল। তিনি একই সাথে কোমল ও কঠোর ছিলেন। তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক। কাজ সম্পন্ন করেন এবং ন্যায়বিচারও প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু তার শাসনামলে তার স্ত্রী ইমেলদা এতই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন যে, সমস্ত প্রশাসনযন্ত্র তাকে প্রেসিডেন্টের চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করে।
- ক)(1)
নূরজাহানের প্রকৃত নাম কী ছিল?
- খ)(2)
সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম সেলিম রাখার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সাথে কোন মুঘল সম্রাটের তুলনা করা যায়?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ইমেলদার কার্যাবলির সাথে সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কার্যাবলির তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নূরজাহানের প্রকৃত নাম ছিল মেহেরুন্নিসা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট আকবর তাঁর কোনো সন্তান জীবিত না থাকায় ফতেহপুর সিক্রির বিখ্যাত সুফি সাধক শেখ সেলিম চিশতীর শরণাপন্ন হন এবং তাঁর দোয়ায় আকবরের এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। তাই সেই সাধকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আকবর তাঁর নবজাতক পুত্রের নাম রাখেন 'সেলিম' (যিনি পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করেন)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সাথে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের তুলনা করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ব্যক্তিত্বে ভালো ও মন্দের সমন্বয় ছিল, তিনি একই সাথে কোমল ও কঠোর ছিলেন এবং তাঁর সময়ে স্ত্রী প্রশাসনিকভাবে প্রচণ্ড প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। একইভাবে, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী, ন্যায়পরায়ণ ও প্রজাদরদি শাসক; তিনি সুবিচারের প্রতীক হিসেবে 'ন্যায়বিচারের শিকল' (জাঞ্জির-ই-আদল) প্রবর্তন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর চরিত্রে আরামপ্রিয়তা ও মদ্যপানের মতো দুর্বলতাও ছিল। পাশাপাশি তাঁর শাসনামলে তাঁর প্রিয়তমা সম্রাজ্ঞী নূরজাহান রাজকার্যে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন। সুতরাং, এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শাসনপরিস্থিতির কারণে উদ্দীপকের মার্কোসের সাথে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ইমেলদার ক্ষমতা ও ভূমিকার সাথে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের প্রশাসনিক প্রভাব ও কার্যাবলির চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মার্কোসের শাসনামলে তাঁর স্ত্রী ইমেলদা এতই ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন যে তিনি প্রশাসনের চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। মুঘল ইতিহাসের ক্ষেত্রেও ঠিক একই দৃশ্য দেখা যায় সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ক্ষেত্রে। সম্রাট জাহাঙ্গীর নূরজাহানকে বিবাহের পর থেকে ক্রমান্বয়ে নূরজাহানের বুদ্ধিমত্তা ও যোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে নূরজাহান মুঘল সাম্রাজ্যের কার্যত সর্বময় কর্তৃত্ব বা 'ডি-ফ্যাক্টো' শাসক হয়ে ওঠেন।
নূরজাহান একটি শক্তিশালী চক্র বা 'নূরজাহান জান্তা' গঠন করে প্রশাসন পরিচালনা করতেন। তাঁর নামে রাজকীয় ফরমান জারি করা হতো, এমনকি মুদ্রাতেও সম্রাটের নামের সাথে নূরজাহানের নাম মুদ্রিত হতো। ঝরোকা দর্শন থেকে শুরু করে যুদ্ধের সেনাপতিত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি পর্যন্ত নূরজাহানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। জাহাঙ্গীর নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে নূরজাহানের ওপর তিনি শাসনভার অর্পণ করে নিশ্চিন্ত হয়েছেন। অতএব, উদ্দীপকের ইমেলদার মতো নূরজাহানও ছিলেন স্বীয় স্বামীর শাসনামলে আড়ালে বা প্রকাশ্যে প্রকৃত ক্ষমতার উৎস ও চালিকাশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও