ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

২০২০ সালের নভেম্বর মাসের মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু সে দেশের ক্ষমতাশীন জান্তা সরকার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বাতিল করে। জনরায়ের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে এনএলডি প্রধানকে গ্রেফতার করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করে। সামরিক জান্তা সরকারের প্রতিক্রিয়াশীল নীতির কারণে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করে।

  1. ক)

    বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    আমাদের মুক্তিযুদ্ধে' রাজাকার, আল-বদর বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল?’

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে পঠিত কোন নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম তাজউদ্দীন আহমদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার ও আল-বদর বাহিনী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ও দোসর হিসেবে চরম মানবতাবিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল। তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে পথঘাট চেনানো, মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ, লুণ্ঠন, নারী নির্যাতন এবং বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বিজয়ের পূর্বক্ষণে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সরাসরি লিপ্ত ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনটির সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ে পঠিত পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও শাসক সামরিক জান্তা সেই জনরায় অস্বীকার করে, নির্বাচন স্থগিত/বাতিল করে এবং দলের প্রধানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন শুরু করে, যার ফলে জনগণ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়।

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে এবং ২৫ মার্চ রাতে নিরীহ বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। উদ্দীপকের অং সান সুচির নির্বাচন ও পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের ঘটনাটির সাথে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও পাকিস্তানি জান্তার ভূমিকার পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।

    প্রথমত, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচির প্রতি বাঙালি জাতির সর্বাত্মক ও প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পাকিস্তানের তথাকথিত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ধারণাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে রায় দেয়।

    দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাঙালির একমাত্র বৈধ মুখপাত্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এটি ছিল ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়া ঐতিহাসিক জবাব।

    তৃতীয়ত, সামরিক জান্তা যখন জনরায়কে অগ্রাহ্য করে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে গণহত্যার পথ বেছে নেয়, তখন এই নির্বাচনের ম্যান্ডেটই মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করেছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে বাঙালিরা বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়, বরং গণতান্ত্রিকভাবে বিজয়ী হয়েও তারা গণহত্যার শিকার এবং স্বাধীনতার ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামে লিপ্ত।

    সুতরাং বলা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই মূলত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভিত্তি রচিত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন