জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রায়হান টেলিভিশনে একটি বনের উপর প্রচারিত প্রতিবেদন দেখছিল। এতে গোলপাতা, গেওয়া প্রভৃতি উদ্ভিদ ছিল এবং বনের মাটি ছিল কাদাময় । [রা. বো., কু. বৌ:, চ. বৌ, ব. বো. ২০১৮ | প্রশ্ন নং ৭/
- ক)(1)
পপুলেশন কী?
- খ)(2)
মরুভূমি একটি বায়োম- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বন সংশ্লিষ্ট প্রাণিভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এলাকার নামসমূহ লেখো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উদ্ভিদসমূহ উক্ত এলাকাতে সংরক্ষণ করাই উত্তম– বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী একই প্রজাতির একদল জীবের সমষ্টিকে পপুলেশন (Population) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়োম হলো বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চল যার জলবায়ু, মাটি এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল দ্বারা এটি সংজ্ঞায়িত হয়। মরুভূমিতে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যন্ত কম (সাধারণত ২৫ সেমি-র কম), তাপমাত্রা চরমভাবাপন্ন এবং তীব্র বাষ্পীভবন ঘটে। এই চরম পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এখানে ক্যাকটাসজাতীয় রসালো উদ্ভিদ এবং উট, জেরবিল, বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপের মতো মরুজ অভিযোজিত জীবের একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তুতান্ত্রিক সম্প্রদায় গড়ে ওঠে। নিজস্ব অনন্য জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্যের এই সুষম রূপের কারণেই মরুভূমি একটি স্বতন্ত্র বায়োম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গোলপাতা ও গেওয়া সমৃদ্ধ কাদাময় বনটি হলো সুন্দরবন। সুন্দরবন তথা বাংলাদেশ বিশ্ব প্রাণিভৌগোলিক অঞ্চলের 'ওরিয়েন্টাল অঞ্চল' (Oriental Realm)-এর অন্তর্ভুক্ত।
ওরিয়েন্টাল অঞ্চল প্রধানত চারটি উপ-অঞ্চলে বিভক্ত। এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাসমূহ হলো:
১. ভারতীয় উপ-অঞ্চল (Indian Sub-region): হিমালয়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর মোহনা পর্যন্ত ভারতের প্রধান অংশ এবং শ্রীলঙ্কার উত্তরাংশ।
২. সিলন উপ-অঞ্চল (Ceylonese Sub-region): ভারতের দক্ষিণাংশ (দক্ষিণ উপদ্বীপ) ও শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাংশ।
৩. ইন্দো-চীন উপ-অঞ্চল (Indo-Chinese Sub-region): বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ পাহাড়ি অঞ্চল, আসাম, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ চীন, ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া।
৪. ইন্দো-মালয় উপ-অঞ্চল (Indo-Malayan Sub-region): মালয় উপদ্বীপ, সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও এবং ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত গোলপাতা, গেওয়া প্রভৃতি হলো ম্যানগ্রোভ বনের (সুন্দরবন) বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদ। প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো জীবের স্বীয় আবাসস্থলে এদের সংরক্ষণকে বলা হয় 'ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ'। উদ্দীপকের উদ্ভিদসমূহকে তাদের নিজস্ব এলাকাতেই (ইন-সিটু) সংরক্ষণ করা উত্তম; নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিশেষ ভৌগোলিক ও পরিবেশগত শর্ত: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহ উচ্চ লবণাক্ততা, জোয়ার-ভাটার ওঠা-নামা, নিয়মিত প্লাবন এবং অক্সিজেনের স্বল্পতাযুক্ত কাদাময় মাটিতে বেঁচে থাকার উপযোগী। এদের শ্বাসমূল (নিউমাটোফোর), ঠেস মূল এবং জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম কেবল এ ধরনের বাস্তুতন্ত্রেই সফলভাবে কাজ করে।
২. কৃত্রিম পরিবেশ তৈরির সীমাবদ্ধতা: সুন্দরবনের এই প্রাকৃতিক লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত ইন্টারটাইডাল পরিবেশ বোটানিক্যাল গার্ডেন বা এক্স-সিটু পদ্ধতিতে নিখুঁতভাবে তৈরি ও দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা অত্যন্ত দুরূহ এবং ব্যয়বহুল।
৩. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও মিথস্ক্রিয়া: সুন্দরবনের উদ্ভিদগুলো পারস্পরিক নির্ভরশীলতায় বেঁচে থাকে এবং তারা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বিভিন্ন জলজ ও উভচর প্রাণীর জন্য খাদ্য ও প্রাকৃতিক আবাস সরবরাহ করে। এদের স্বস্থানে সংরক্ষণ করলেই কেবল সম্পূর্ণ ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রটির কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।
৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে প্রতিরক্ষা: ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় অঞ্চলকে সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিক্ষয় থেকে প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে রক্ষা করে। স্বস্থানে তাদের টিকে থাকা সামগ্রিক উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।সুতরাং, ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলোর জৈবিক উপযোগিতা ও বাস্তুতান্ত্রিক অবদান অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তাদের উক্ত প্রাকৃতিক এলাকাতেই (ইন-সিটু সংরক্ষণ) সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে কার্যকর ও সর্বোত্তম পন্থা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও