ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    স্থূল জন্মহার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভূ-প্রকৃতিগত ভিন্নতার কারণে জনসংখ্যার ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' দেশের ১ নং থেকে ২নং-এ গমনের কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' থেকে 'খ' দেশে গমনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজার মধ্যবর্তী মোট জনসংখ্যার বিপরীতে যে পরিমাণ জীবিত সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তাকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate - CBR) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূ-প্রকৃতি জনসংখ্যার বণ্টন ও ঘনত্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সাধারণত সমতল ও উর্বর ভূমি কৃষি কাজ, যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। অন্যদিকে, বন্ধুর ভূ-প্রকৃতিবিশিষ্ট পাহাড়ি বা পার্বত্য অঞ্চল এবং দুর্গম বনাঞ্চলে জীবনযাপন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক কম হয়ে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশ হলো বাংলাদেশ। চিত্রে ১ নং চিহ্নিত দক্ষিণাঞ্চল (যেমন- নদীভাঙন বা দুর্যোগকবলিত উপকূলীয় অঞ্চল/গ্রাম) থেকে ২ নং চিহ্নিত রাজধানী ঢাকা বা কেন্দ্রীয় নগরাঞ্চলে অভিগমন (অভ্যন্তরীণ গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিগমন) নির্দেশ করা হয়েছে।

    ১ নং থেকে ২ নং-এ গমনের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. অর্থনৈতিক কারণ: জীবিকার সন্ধান, ভালো চাকরির সুযোগ এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের আশায় মানুষ রাজধানী বা বড় শহরে গমন করে।
    ২. শিক্ষাগত সুযোগ: উচ্চশিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি শিক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা রাজধানীতে কেন্দ্রীভূত থাকায় শিক্ষার্থীরা শহরমুখী হয়।
    ৩. চিকিৎসা ও উন্নত নাগরিক সুবিধা: উন্নত চিকিৎসাসেবা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বিনোদনসহ উন্নত আধুনিক জীবনযাত্রার সুবিধা ঢাকায় বেশি।
    ৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্য: দক্ষিণাঞ্চলের নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং কৃষিক্ষেত্রে কাজের অভাব ইত্যাদির ধাক্কায় নিঃস্ব হয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে কাজের খোঁজে রাজধানী শহরে অভিবাসী হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশ হলো বাংলাদেশ এবং 'খ' দেশ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)। সুতরাং, 'ক' থেকে 'খ' দেশে গমন হলো আন্তর্জাতিক অভিগমন (International Migration)। এই আন্তর্জাতিক অভিগমনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের প্রভাব রয়েছে:

    'ক' দেশ (বাংলাদেশ)-এর ক্ষেত্রে প্রভাব:
    ১. রেমিট্যান্স প্রবাহ: বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রবাসীরা দেশে যে রেমিট্যান্স পাঠায়, তা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করে।
    ২. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সাহায্য করে।
    ৩. মেধা পাচার (Brain Drain): দেশ থেকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের খ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের ফলে দেশ দক্ষ জনশক্তি হারায়, যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

    'খ' দেশ (যুক্তরাষ্ট্র)-এর ক্ষেত্রে প্রভাব:
    ১. দক্ষ জনশক্তির জোগান: বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মেধাবী ও দক্ষ শ্রমশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও গবেষণা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
    ২. সাংস্কৃতিক মিশ্রণ: বহুসাংস্কৃতিক সমাজ বিনির্মাণে এবং বৈচিত্র্য আনতে অভিবাসীরা ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, 'ক' থেকে 'খ' দেশে গমনের ফলে একদিকে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও মেধা পাচারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়, অন্যদিকে গন্তব্য দেশ প্রয়োজনীয় মেধাবী জনশক্তি পেয়ে উপকৃত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন