‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনসেবা ও আমলাতন্ত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১ : ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে দেখা যায় প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা আবেদন গ্রহণ করেন, অন্যজন তা যাচাই করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠান। কার কী দায়িত্ব তা আগে থেকেই ঠিক করা। সব সিদ্ধান্ত লিখিত নথির মাধ্যমে হয়। ব্যক্তিগত পরিচয় নয় বরং পদ ও নিয়মই এখানে মূল।
দৃশ্যপট-২ : হঠাৎ বন্যার কারণে একটি উপজেলায় জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত সভা ডাকেন। তারা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ত্রাণরে তালিকা প্রস্তুত করেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন করেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করেন। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে যায়।

  1. ক)

    পদসোপান নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কীভাবে কাজের গতিকে স্তিমিত করে —ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে তোমার পঠিত বিষয়টির সাদৃশ্যতা দেখিয়ে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পঠিত বিষয়ের সাদৃশ্যতা উল্লেখপূর্বক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কীভাবে একে অধিকতর জবাবদিহিমূলক করা যায়? সে বিষয়ে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পদসোপান নীতি হলো এমন একটি প্রশাসনিক সাংগঠনিক কাঠামো বা ব্যবস্থা, যেখানে নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ধাপে ধাপে ক্রমানুসারে বিন্যস্ত থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমলাতন্ত্রে নিয়ম-কানুন ও আনুষ্ঠানিকতার প্রতি অন্ধ ও কঠোর আনুগত্যের কারণে নথিপত্র এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে অযথা আটকে থাকাকে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য (Red Tapism) বলা হয়। এর ফলে কর্মকর্তারা নমনীয়তা বা সৃজনশীলতার পরিবর্তে কৃত্রিম বিধিনিষেধ ও অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পেছনে সময় অপচয় করেন। ফলে অতি জরুরি ও সহজ সিদ্ধান্ত নিতেও দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়, যা প্রশাসনিক কাজের স্বাভাবিক গতিকে মারাত্মকভাবে স্তিমিত ও ব্যাহত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে আমার পঠিত পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের 'আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য' (Characteristics of Bureaucracy)-এর সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী, আমলাতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো পদসোপান নীতি, নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র বা কাজের সুনির্দিষ্ট বণ্টন, লিখিত নথিপত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নৈর্ব্যক্তিকতা (ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিয়মের প্রাধান্য)। দৃশ্যপট-১ এর ভূমি অফিসের চিত্রে দেখা যায়—কাজের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয় (পদসোপান), কার কী দায়িত্ব তা পূর্বনির্ধারিত (কাজের বণ্টন), সমস্ত সিদ্ধান্ত লিখিত নথির মাধ্যমে গৃহীত হয় এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের পরিবর্তে পদ ও নিয়মই মুখ্য (নৈর্ব্যক্তিকতা)। এই সমস্ত লক্ষণ সরাসরি আদর্শ আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করে। অতএব, দৃশ্যপট-১ মূলত আমলাতন্ত্রের কার্যকর কাঠামোগত রূপটির প্রতিনিধিত্ব করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়টি লোকপ্রশাসনের 'সংকটকালীন ও উন্নয়নমূলক প্রশাসন' বা জনকল্যাণমূলক আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার দ্রুত ও সমন্বিত কার্যক্রমকে নির্দেশ করে। জরুরি মুহূর্তে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত সমন্বয়, দায়িত্ব বণ্টন ও মাঠ পর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ জাতীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অধিকতর জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে নিম্নে মতামত প্রদান করা হলো:
    ১. সিটিজেন চার্টার ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং: ত্রাণ বা জরুরি সেবা বিতরণে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা দরকার, যাতে প্রতিটি উপকারভোগীর তথ্য ও সহায়তা বিতরণের রেকর্ড উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ থাকে।
    ২. গণতদারকি ও স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব: প্রশাসনের তদারকি কমিটিতে স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হলে কাজের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং দুর্নীতি রোধ হয়।
    ৩. অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরীক্ষা (Audit): দুর্যোগপরবর্তী সময়ে ত্রাণের উৎস, বণ্টন ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব স্বাধীন ও কঠোর অডিটের আওতায় আনা প্রয়োজন।
    ৪. অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (GRS): সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের জন্য অভিযোগ দাখিলের একটি সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা চালু রাখা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
    ৫. পুরস্কার ও শাস্তির বিধান: দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অস্বচ্ছতার জন্য জবাবদিহিতার আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ সম্পাদনকারীদের উৎসাহিত করা।

    উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করলে প্রশাসন কেবল সংকটকালীন সময়ে কার্যকর থাকবে না, বরং সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে সর্বোচ্চ জবাবদিহিতামূলক হয়ে উঠবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন