যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
শফিক দম্পতিকে চাকরির সুবাদে প্রতিদিনই কর্মস্থলে যেতে হয়। একদিন বাড়ি ফিরে দেখেন দরজা খোলা এবং সব মালামাল মেঝেতে পড়ে আছে। তাদের বুঝতে আর বাকি রইল না যে সেটি চোরেরই কাজ।
- ক)(1)
কলা কী?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যাকে কেন চিন্তামূলক বিজ্ঞান বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে শফিক দম্পতির ভাবনায় যুক্তিবিদ্যার যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে কোনটি প্রত্যক্ষ ও কোনটি পরোক্ষ জ্ঞান তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাস্ত্র কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় কলাকৌশল ও কর্মপদ্ধতি শিক্ষা দেয়, তাকে কলা (Art) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাস্ত্র নির্দিষ্ট বিষয়ে সুশৃঙ্খল ও নিশ্চিত তাত্ত্বিক জ্ঞান দান করে, তাকে বিজ্ঞান বলে।
যুক্তিবিদ্যা মানুষের মননশীল প্রক্রিয়া বা চিন্তার মৌলিক রূপ, সত্যতা ও বৈধতার নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করে। এটি চিন্তা প্রক্রিয়ার সাধারণ নিয়মাবলিকে সুশৃঙ্খলভাবে বিশ্লেষণ ও প্রণয়ন করে সত্য অর্জন এবং ভ্রান্তি পরিহারের দিকনির্দেশনা দেয়। চিন্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত এই সুশৃঙ্খল জ্ঞানের কারণেই যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তামূলক বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শফিক দম্পতির ভাবনায় যুক্তিবিদ্যার 'অনুমান' (Inference) বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
জানা বা প্রত্যক্ষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে মানসিক ধারণা বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে যুক্তিবিদ্যায় অনুমান বলা হয়। অনুমানের দুটি দিক থাকে—একটি জানা সত্য এবং অন্যটি অজানা সত্য। জ্ঞাত বিষয়ের আলোকে যুক্তি খাটিয়ে অজ্ঞাত সত্যকে তুলে ধরাই অনুমানের কাজ।
উদ্দীপকে শফিক দম্পতি বাড়ি ফিরে দরজা খোলা এবং মালামাল মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। এই দৃশ্যটি তাঁদের কাছে জ্ঞাত বা প্রত্যক্ষ সত্য। এর ওপর ভিত্তি করে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে এটি চোরের কাজ, যা ছিল তাঁদের কাছে অজ্ঞাত বিষয়। জানা বিষয় থেকে এই অজ্ঞাত বিষয়ে উত্তরণের মানসিক প্রক্রিয়াই হলো যুক্তিবিদ্যার অনুমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শফিক দম্পতির বাড়ি ফিরে খোলা দরজা ও মেঝেতে মালামাল ছড়ানো দেখতে পাওয়া হলো 'প্রত্যক্ষ জ্ঞান', আর এর ভিত্তিতে ঘরে চোর এসেছিল বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো 'পরোক্ষ জ্ঞান'।
ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের সাথে সরাসরি সংযোগ ঘটে যে জ্ঞান লাভ হয়, তাকে প্রত্যক্ষ জ্ঞান বলে। অপরদিকে, প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায় না এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত বা প্রত্যক্ষ সত্যের ওপর নির্ভর করে পরোক্ষভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালে তাকে পরোক্ষ জ্ঞান বা অনুমিত জ্ঞান বলা হয়।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়:
১. প্রত্যক্ষ জ্ঞান: শফিক দম্পতি কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে নিজ চোখে দেখেন যে ঘরের দরজা খোলা এবং মালামাল মেঝেতে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। এটি তাঁরা পঞ্চেন্দ্রিয়ের (চোখের) মাধ্যমে সরাসরি দেখেছেন, তাই এটি প্রত্যক্ষ জ্ঞান।
২. পরোক্ষ জ্ঞান: চোর ঘরে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করেছে—এই ঘটনাটি শফিক দম্পতি নিজেদের চোখে দেখেননি। কিন্তু খোলা দরজা এবং এলোমেলো মালামাল দেখে পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, "এটি চোরের কাজ"। এই মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান হলো অনুমানলব্ধ বা পরোক্ষ জ্ঞান।সুতরাং, যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং তার কার্যকারণ সূত্রের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত সিদ্ধান্তটি পরোক্ষ জ্ঞানের নিদর্শন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও