সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
- ক)(1)
কোন অঞ্চল মানুষের বসবাসের উপযোগী?
- খ)(2)
বংশগতি বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উপরের ছকে 'ক' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের প্রভাব বিস্তারকারী যে উপাদানটির ইঙ্গিত রয়েছে তা বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উক্ত উপাদানটি সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল মানুষের বসবাসের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় পিতামাতার শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশানুক্রমে সন্তানসন্ততির মধ্যে স্থানান্তরিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।
বংশগতির মূল একক হলো জিন (Gene)। জিনের মাধ্যমেই পূর্বপুরুষদের রক্তের গ্রুপ, গায়ের রঙ, চোখের রঙ, উচ্চতা, চুল ও বুদ্ধিমত্তার মতো শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। এটি ব্যক্তির আদি জৈবিক ভিত্তি নির্মাণ করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপরের ছকে 'ক' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের প্রভাব বিস্তারকারী 'সাংস্কৃতিক উপাদান'-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
সংস্কৃতি হলো মানুষের সমগ্র জীবনপ্রণালি। মানুষ সমাজে বসবাসের জন্য যা কিছু সৃষ্টি, অর্জন ও লালন করে, তা-ই সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "আমাদের যা আছে তা-ই আমাদের সভ্যতা, আর আমরা যা তা-ই আমাদের সংস্কৃতি।"
উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়— পৌষ মেলা, নবান্ন উৎসব, ভাওয়াইয়া গান, পহেলা বৈশাখ, তাঁত শিল্প মেলা এবং মহানগর নাট্যমঞ্চ সবই আমাদের সমাজের সাংস্কৃতিক উপাদান। এগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায় (যেমন: নবান্ন, পৌষ মেলা, ভাওয়াইয়া গান), আর কিছু বিষয় আধুনিক ও ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রের রূপ (যেমন: মহানগর নাট্যমঞ্চ, তাঁত শিল্প মেলা)। এই উপাদানগুলো সমাজের মানুষের চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ, বিনোদন ও রীতিনীতিকে একত্রিত করে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে। সুতরাং, ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের সাংস্কৃতিক উপাদানকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত উপাদানটি অর্থাৎ সাংস্কৃতিক উপাদান সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। নিচে উত্তরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. সামাজিক সংহতি ও ঐক্য রক্ষা: পৌষ মেলা, নবান্ন উৎসব কিংবা পহেলা বৈশাখের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও ধর্মের মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসে। এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।
২. সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া: সাংস্কৃতিক উপাদানের মাধ্যমে সমাজস্থ ব্যক্তিবর্গের সামাজিকীকরণ সম্পন্ন হয়। ভাওয়াইয়া গান, নাট্যমঞ্চের নাটক কিংবা লোকজ মেলা থেকে মানুষ ঐতিহ্য, নীতিবোধ ও সমাজের প্রত্যাশিত আচরণ শেখে।
৩. অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব: ছকে উল্লেখিত 'তাঁত শিল্প মেলা' বা বৈশাখী মেলা কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং গ্রামীণ কুটির শিল্প ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করে। সংস্কৃতির সাথে উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।
৪. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ: সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখতে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, প্রথা ও বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নাটক ও লোকশিল্প সমাজের অন্যায় বা অসংগতিকে তুলে ধরে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
৫. পরিচয় ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা: একটি সমাজের স্বকীয়তা ও জাতিসত্তার পরিচয় টিকে থাকে সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায়। নিজস্ব সংস্কৃতি সমাজকে অন্য সমাজ থেকে আলাদা করে পরিচিতি দান করে।
পরিশেষে বলা যায়, সাংস্কৃতিক উপাদান মানুষের চালচলন, আচার-ব্যবহার, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমগ্র সমাজব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও