পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ফিলিস্তিনি জনগণের রাজনৈতিক মুক্তি ও স্বাধীনতা লাভের জন্য ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। এই সরকার ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উক্ত সরকার ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলে। এই সরকারের পক্ষে বিশ্বের শান্তিকামী দেশগুলোকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
- ক)(1)
'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক কে ছিলেন?
- খ)(2)
"অপারেশন সার্চলাইট" বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে বাংলাদেশের কোন সরকারের মিল পাওয়া যায়? এর গঠন উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উত্ত সরকার 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ সুগম করে' মতামত দাও
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালি জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত, পরিকল্পিত ও নৃশংস গণহত্যা পরিচালনা করে, সামরিক পরিভাষায় তার গোপন নাম দেওয়া হয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে সামরিক শক্তির জোরে চিরতরে দমন করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতাকামী সরকারের সাথে ১৯৭১ সালে গঠিত বাংলাদেশের 'মুজিবনগর সরকার' (বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার)-এর মিল পাওয়া যায়।
মুজিবনগর সরকারের গঠন:
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়া (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। এর কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:
১. রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দি থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন)।
২. প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ।
৩. অর্থমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
৪. স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
৫. পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।
এ ছাড়া কর্নেল (অব.) আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মুজিবনগর সরকার 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ সুগম করে'—মতামতটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে মুজিবনগর সরকারের অবদান ছিল অপরিসীম:
১. মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা: মুজিবনগর সরকার গঠনের ফলে মুক্তিযুদ্ধ একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এই সরকার সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে এবং নিয়মিত বাহিনীকে তিনটি ব্রিগেডে বিভক্ত করে দক্ষ সমর কৌশল পরিচালনা করে।
২. আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ও স্বীকৃতি: মুজিবনগর সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো সমর্থন ও জনমত গড়ে তোলে। বিশেষ করে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের অন্যান্য শান্তিকামী দেশগুলোর নৈতিক ও সামরিক সমর্থন অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৩. শরণার্থী ব্যবস্থাপনা: পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীর খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ভারত সরকারের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে এ সরকার।
৪. সার্বভৌম রাষ্ট্রের আইনি ভিত্তি: ১০ এপ্রিল স্বাধীনতা ঘোষণার সনদের মাধ্যমে এই সরকার স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আইনি বৈধতা প্রদান করে।অতএব, মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব, সমন্বিত সামরিক ও কূটনৈতিক প্রয়াস বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত ও সুগম করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও