জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

তন্ত্র A : নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনতন্ত্র B : CO2CO_2 নিষ্কাশন

  1. ক)

    এপিগ্লটিস কী?

    (1)
  2. খ)

    অতিসূক্ষ্ম ছাঁকন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তন্ত্র A এর গঠনগত ও কার্যগত এককের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে তন্ত্র A ও তন্ত্র B, ভিন্নতন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত হলেও তারা বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করে- তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গলবিলের পেছনে স্বরযন্ত্রের উপরিভাগে অবস্থিত স্থিতিস্থাপক তরুণাস্থি নির্মিত পাতা আকৃতির ঢাকনাকে এপিগ্লটিস বা উপজিহ্বা বলে, যা খাদ্য গলধঃকরণের সময় শ্বাসনালীর প্রবেশমুখ ঢেকে রাখে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৃক্কের গ্লোমেরুলাসের মাধ্যমে রক্তের প্লাজমা থেকে ইউরিয়া, পানি, লবণ, গ্লুকোজ প্রভৃতি উপাদান উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে বোম্যান্স ক্যাপসুলের গহ্বরে পরিশ্রুত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অতিসূক্ষ্ম ছাঁকন (Ultrafiltration) বলে। রেনাল ধমনি ও অ্যাফারেন্ট আর্টেরিওলের তুলনায় ইফারেন্ট আর্টেরিওলের ব্যাস সরু হওয়ায় গ্লোমেরুলার কৈশিকজালকে উচ্চ হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা রক্তকোষ ও বড় প্রোটিন অণু ব্যতীত প্লাজমার তরল অংশকে কার্যকরভাবে ছেঁকে নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য নিষ্কাশনকারী তন্ত্র A হলো রেচনতন্ত্র। রেচনতন্ত্র তথা বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো নেফ্রন।

    [পরীক্ষায় নেফ্রনের একটি সুস্পষ্ট চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে]

    চিত্রের প্রধান প্রধান অংশসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. রেনাল করপাসল (ম্যালপিজিয়ান বডি):

    • বোম্যান্স ক্যাপসুল (Bowman's capsule)
    • গ্লোমেরুলাস (Glomerulus)
    • অ্যাফারেন্ট ও ইফারেন্ট আর্টেরিওল
      ২. রেনাল টিউবিউল:
    • প্রক্সিমাল বা নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (PCT)
    • হেনলির লুপ (অবতরণ ও আরোহণ বাহু)
    • ডিস্টাল বা দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (DCT)
      ৩. সংগ্রাহক নালিকা (Collecting duct)
      ৪. কৈশিক জালক (Peritubular capillaries/ভাসা রেকটা)।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তন্ত্র A হলো 'রেচনতন্ত্র' এবং তন্ত্র B হলো 'শ্বসনতন্ত্র'। এই দুটি ভিন্ন অঙ্গতন্ত্রের অংশ হলেও উভয়ই মানবদেহের বিপাকজাত বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করে দেহকে বিষাক্ত প্রভাবমুক্ত রাখে। নিম্নে এদের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. তন্ত্র A (রেচনতন্ত্র) কর্তৃক বর্জ্য নিষ্কাশন:

    • আমিষ জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে দেহে অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয়, যা যকৃতে ডিঅ্যামিনেশন ও অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে ক্ষতিকর ইউরিয়াতে রূপান্তরিত হয়।
    • রেচনতন্ত্রের মূল অঙ্গ বৃক্ক রক্ত থেকে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন এবং অতিরিক্ত খনিজ লবণ ও পানি অতিসূক্ষ্ম ছাঁকন ও পুনঃশোষণের মাধ্যমে নিষ্কাশন করে মূত্র হিসেবে দেহের বাইরে বের করে দেয়।
    • এটি দেহের পানি ও অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য (Homeostasis) রক্ষা করে।

    ২. তন্ত্র B (শ্বসনতন্ত্র) কর্তৃক বর্জ্য নিষ্কাশন:

    • কোষে সংঘটিত গ্লুকোজ জারণ বা অন্তঃশ্বসনের ফলে প্রধান বিপাকীয় গ্যাসীয় বর্জ্য হিসেবে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও পানি উৎপন্ন হয়।
    • রক্তে CO₂ অতিরিক্ত জমে গেলে রক্ত অম্লীয় হয়ে পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট করে। শ্বসনতন্ত্রের ফুসফুস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অ্যালভিওলাই ও কৈশিকজালকের মধ্যে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটিয়ে প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ক্ষতিকর CO₂ গ্যাস এবং জলীয় বাষ্প পরিবেশের মুক্ত বাতাসে নিষ্কাশন করে।

    সুতরাং, গঠন ও প্রধান কাজের দিক থেকে তন্ত্র দুটি পৃথক হলেও বিপাকীয় নাইট্রোজেন ঘটিত তরল বর্জ্য এবং গ্যাসীয় বর্জ্য (CO₂) অপসারিত করে দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে উভয় তন্ত্রই রেচন ও বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন