পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ শাসন অবসানের অব্যাহতি পরে নতুন পাকিস্তান রাষ্ট্রের একাংশের জনগণ শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে জনগণের দাবি পূর্ণতাপায়।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট কী?
- খ)(2)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে।
- ঘ)(4)
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে বর্ণিত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মুসলিম লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ (প্রধানত আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল) নিয়ে গঠিত একটি নির্বাচনী রাজনৈতিক মোর্চা বা ঐক্যজোট।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলতে বিশ্বের সকল মাতৃভাষার সংরক্ষণ, বিকাশ এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপিত আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসকে বোঝায়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদার জন্য ঢাকার রাজপথে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনটি হলো ঐতিহাসিক 'ভাষা আন্দোলন'।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ (প্রায় ৫৬%) মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হলে ঢাকায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় এবং 'তমদ্দুন মজলিস' ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে। ১৯৪৮ সালের মার্চে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা দেন—"Urdu, and Urdu shall be the only state language of Pakistan", যার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পুনরায় একই ঘোষণা দিলে আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের পথ ধরে অবশেষে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই মূলত বাঙালি জাতিকে একটি পৃথক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে শিখিয়েছিল।
প্রথমত, পাকিস্তান সৃষ্টির পর ধর্মভিত্তিক যে জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল, ভাষা আন্দোলন সেই মোহের অবসান ঘটায়। ধর্মের পরিবর্তে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক সেক্যুলার 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ'-এর ভিত্তি রচিত হয় এ আন্দোলনের মাধ্যমেই।
দ্বিতীয়ত, এ আন্দোলন পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি করে। এটি প্রমাণ করে যে শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে দাবি আদায় করা সম্ভব। এই চেতনা থেকেই পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়।
পরিশেষে, ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তানবিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রথম সোপান। এর প্রত্যক্ষ পথপরিক্রমায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল এই ভাষা আন্দোলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও