উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আব্দুর রউফ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় আসেন। তিনি সীমিত মূলধন নিয়ে ধানমন্ডিতে ছোট পরিসরে একটি মৌসুমি ফলের দোকান দেন। তিনি সর্বদা ফলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২৫% অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের টার্গেট করেন। সেখানে তিনি আম, কলা, পেয়ারা ইত্যাদি দেশীয় টাটকা ফল বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হচ্ছেন।
- ক)(1)
রিবেট কী?
- খ)(2)
পণ্যের জীবন চক্রের কোন পর্যায়ে বিক্রয় ও মুনাফা সর্বোচ্চ হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আব্দুর রউফের বিক্রীত পণ্য কোন ধরনের ভোগ্য পণ্য? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে জনাব আব্দুর রউফ যে পদ্ধতিতে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করেছেন তা মূল্য নির্ধারণের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি- তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের 'সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল্য পরিশোধ বা কোনো নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে পণ্যের তালিকাভুক্ত মূল্য থেকে ক্রেতাকে যে ছাড় দেওয়া হয়, তাকে রিবেট (Rebate) বা বাট্টা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পণ্যের জীবনচক্রের পূর্ণতা (Maturity) পর্যায়ে বিক্রয় ও মুনাফা সর্বোচ্চ হয়।
এই পর্যায়ে পণ্যটি বাজারে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং বিপুল সংখ্যক ক্রেতা পণ্যটি ক্রয় করে। ফলে বিক্রয়ের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। বিক্রয় বৃদ্ধির কারণে একক প্রতি উৎপাদন ও বিপণন ব্যয় হ্রাস পায় এবং প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তবে এ পর্যায়ের শেষের দিকে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে মুনাফা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আব্দুর রউফের বিক্রীত পণ্য সুবিধাজনক ভোগ্যপণ্য (Convenience Goods) এর অন্তর্ভুক্ত।
যেসব ভোগ্যপণ্য ক্রেতারা সাধারণত কোনো প্রকার বাছবিচার বা অতিরিক্ত শ্রম ছাড়া নিয়মিতভাবে হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন স্থান থেকে সহজে ক্রয় করে, সেগুলোকে সুবিধাজনক পণ্য বলে। ফলমূল, শাকসবজি, সাবান, টুথপেস্ট ইত্যাদি সুবিধাজনক পণ্যের উদাহরণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আব্দুর রউফ ধানমন্ডিতে দেশীয় মৌসুমি ফল যেমন আম, কলা, পেয়ারা ইত্যাদি বিক্রি করেন। ক্রেতারা এসব ফল নিত্যদিনের প্রয়োজনে খুব সহজে ও কম সময়ে নিকটস্থ দোকান থেকে ক্রয় করে থাকেন। তাই জনাব রউফের ফলসমূহ সুবিধাজনক ভোগ্যপণ্যের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে জনাব আব্দুর রউফ যে পদ্ধতিতে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করেছেন তা মূল্য নির্ধারণের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি—আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
উদ্দীপকে জনাব আব্দুর রউফ ফল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মোট বা ক্রয়মূল্যের সাথে নির্দিষ্ট ২৫% অতিরিক্ত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেন। এটি বিপণনে ব্যয়-যোগ পদ্ধতি (Cost-plus pricing) বা মার্কআপ মূল্য নির্ধারণ (Markup pricing) পদ্ধতি নামে পরিচিত। এ পদ্ধতিতে পণ্যের একক প্রতি ব্যয়ের সাথে একটি নির্দিষ্ট শতকরা হারে প্রত্যাশিত মুনাফা যোগ করে সহজেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
মূল্য নির্ধারণের অন্যান্য পদ্ধতি, যেমন—ভারসাম্য বা টার্গেট মুনাফাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং ক্রেতাকেন্দ্রিক বা প্রতিযোগীভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। সেগুলোর ক্ষেত্রে বাজার চাহিদা, প্রতিযোগীদের কৌশল এবং জটিল গাণিতিক হিসাব বিবেচনা করতে হয়। পক্ষান্তরে, ব্যয়-যোগ পদ্ধতিতে বিক্রেতা তার পণ্যের ক্রয়মূল্য বা খরচের সাথে সরাসরি কাঙ্ক্ষিত মুনাফার হার (এখানে ২৫%) যোগ করেই মূল্য পেয়ে যান। এতে জটিল কোনো বাজার বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না এবং ছোট বা মাঝারি খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য এটি প্রয়োগ করা অত্যন্ত সহজ।
অতএব, হিসাবের সরলতা ও দ্রুত মূল্য নির্ধারণের সুবিধার কারণে উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যয়-যোগ পদ্ধতিটি বাস্তবিক অর্থেই মূল্য নির্ধারণের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও