উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব রাশেদ কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ শেষে থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পথে কয়েকটি ড্রাগন ফলের চারা এনে গাজীপুরের বাগান বাড়িতে রোপণ করেন। এখানকার মাটি ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় তিনি ড্রাগন চাষে আগ্রহী হন। এ লক্ষ্যে ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন এবং অল্পদিনেই লাভবান হন।

  1. ক)

    ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি কী?

    (1)
  2. খ)

    শ্রমের ধারণা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উল্লিখিত উদ্দীপকে প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদনের কোন উপাদানের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব রাশেদের ড্রাগন ফল চাষের উদ্যোগটি কীভাবে বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন ভোক্তা যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট দ্রব্য ক্রমাগত অধিক পরিমাণে ভোগ করতে থাকে, তখন ওই দ্রব্যের অতিরিক্ত এককগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে; উপযোগের এই নিয়মকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদনের একটি অপরিহার্য ও জীবন্ত উপাদান হলো শ্রম।

    অর্থনীতিতে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রচেষ্টাকে শ্রম বলা হয়, যার বিনিময়ে অর্থ বা পারিশ্রমিক অর্জিত হয়। আনন্দ বা উপকারের উদ্দেশ্যে করা কোনো কাজ শ্রম হিসেবে গণ্য হয় না যদি না তার পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বা পারিশ্রমিক প্রাপ্তির প্রত্যাশা থাকে। শ্রমকে শ্রমিক থেকে আলাদা করা যায় না এবং শ্রম একটি ক্ষণস্থায়ী উপাদান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদনের মৌলিক উপাদান 'ভূমি'-র প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।

    উৎপাদনের প্রথম ও আদি উপাদান হলো ভূমি। সাধারণ অর্থে ভূমি বলতে মাটিকে বোঝালেও অর্থনীতিতে উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত মাটির উর্বরতা, আবহাওয়া, জলবায়ু, পানি, খনিজ পদার্থসহ প্রকৃতির সব ধরনের দানকে ভূমি বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রাশেদ থাইল্যান্ড থেকে ড্রাগন ফলের চারা এনে গাজীপুরের বাগান বাড়িতে রোপণ করেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় তিনি ফলটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করার উদ্যোগ নেন। মাটির উর্বরতা এবং উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ ভূমির ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যই প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। অতএব, প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদনের উপাদান হিসেবে ভূমির প্রত্যক্ষ ভূমিকা অনস্বীকার্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব রাশেদের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন ফল চাষের উদ্যোগটি বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে বহুমুখী ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

    বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে জনাব রাশেদ প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে আধুনিক ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উচ্চমূল্যের বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেছেন এবং লাভবান হয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ নিম্নলিখিত উপায়ে কৃষি অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে:

    ১. ফসলের বহুমুখীকরণ: ধান বা প্রচলিত ফসলের বাইরে লাভজনক ড্রাগন চাষ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনয়ন করে।
    ২. পুষ্টি চাহিদা পূরণ: ড্রাগন ফলে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তা দেশের জনগণের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যিক বাগান পরিচর্যা, ফসল তোলা, প্যাকেটজাতকরণ ও পরিবহন কাজে স্থানীয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
    ৪. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: দেশে প্রচুর ড্রাগন উৎপাদিত হলে ফল আমদানির নির্ভরতা কমে, ফলে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও বাণিজ্যিকভাবে উচ্চমূল্যের ড্রাগন চাষ কৃষির আধুনিকীকরণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন