বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.
(ক) বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর। অথবা,(খ) 'স্বনির্ভরতার জন্য চাই ইচ্ছাশক্তি' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) এর উত্তর:
'বই পড়ার গুরুত্ব' সম্পর্কে দুই বন্ধু আসিফ ও নাবিলের মধ্যে সংলাপ:
আসিফ: শুভ অপরাহ্ন, নাবিল! কী করছ এখন?
নাবিল: শুভ অপরাহ্ন, আসিফ! এই তো, বঙ্কিমচন্দ্রের 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসটি পড়ছিলাম।
আসিফ: তুমি তো সবসময়ই পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোনো না কোনো বই পড়তে থাকো। এতে কি পড়াশোনার ক্ষতি হয় না?
নাবিল: একদমই না, আসিফ। বরং পাঠ্যবই আমাদের নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের সীমানায় আটকে রাখে, আর অন্যান্য বই আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করে।
আসিফ: কিন্তু বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের যুগে আলাদা করে বই পড়ার কি খুব দরকার আছে?
নাবিল: অবশ্যই আছে। ইন্টারনেট আমাদের নানা রকম তথ্য দিতে পারে, কিন্তু গভীর জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বিকাশের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রমথ চৌধুরী যথার্থই বলেছেন, 'বই পড়ার অভ্যাসটা বজায় না রাখলে আমরা কোনো দিনই খাঁটি শিক্ষিত হতে পারব না।'
আসিফ: বই পড়লে আর কী কী উপকার পাওয়া যায়?
নাবিল: বই মানুষের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটায়, শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। একটি ভালো বই হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, যা নিঃসঙ্গতা দূর করে এবং সঠিক পথের দিশা দেখায়।
আসিফ: তোমার কথা শুনে বুঝতে পারছি, বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং দৃষ্টিভঙ্গি উদার হয়।
নাবিল: ঠিক তাই। জ্ঞানের আলো পেতে এবং নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
আসিফ: ধন্যবাদ নাবিল, আজ থেকে আমিও অবসর সময়ে বই পড়ার নিয়মিত অভ্যাস করব।
নাবিল: তোমাকে স্বাগতম, আসিফ! শুভ উদ্যোগের জন্য শুভকামনা রইল।
অথবা,
(খ) এর উত্তর:
খুদে গল্প:
স্বনির্ভরতার জন্য চাই ইচ্ছাশক্তি
পল্লব এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পরই হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবার মৃত্যু হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি গভীর সংকটে পড়ে যায়। পল্লবের ছোট দুটি ভাই-বোনের পড়াশোনা এবং সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
আত্মীয়-স্বজনরা মুখে সান্ত্বনা দিলেও বাস্তব সহযোগিতায় কেউ এগিয়ে এলো না। পল্লব বুঝতে পারল, অন্যের দয়ার ওপর ভরসা করে জীবন চলতে পারে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতেই হবে। কিন্তু মূলধন ছাড়া কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়? পল্লবের মধ্যে ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম করার মানসিকতা। সে দমে গেল না।
বাড়ির পেছনে তাদের একখণ্ড পতিত জমি ছিল। পল্লব কৃষিবিষয়ক ইউটিউব ভিডিও দেখে এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সেই জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ ও নার্সারি করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি সে কিছু দেশি হাঁস-মুরগি পালনের ছোট্ট একটি খামার শুরু করে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি, আর বিকেলে নিজের পড়াশোনা—এভাবেই কাটতে লাগল তার দিনগুলো। শুরুতে বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীরা নানা কথা শুনিয়ে উপহাস করত। কিন্তু পল্লব নিজের লক্ষ্যে ছিল অবিচল।
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পল্লবের খামার ও নার্সারির উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। সবজি ও চারা বিক্রি করে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। সে নিজে একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হয় এবং ছোট ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচও নিশ্চিত করে। পল্লবের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও শ্রম আজ তাকে একজন সফল স্বনির্ভর যুবকে পরিণত করেছে। গ্রামবাসী এখন তাকে সম্মান ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও